close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

স্ত্রীকে খুনে স্বামী ও তাঁর প্রেমিকাকে ফাঁসির সাজা শোনাল শিয়ালদা আদালত

স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে খুন করেছি, কাতর আর্জি শুনলই না আদালত

Sukanta Mukherjee | Updated: Jul 22, 2019, 07:36 PM IST
স্ত্রীকে খুনে স্বামী ও তাঁর প্রেমিকাকে ফাঁসির সাজা শোনাল শিয়ালদা আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদন: লেকটাউনের জয়ন্তী দেব হত্যাকাণ্ডে স্বামী ও তাঁর প্রেমিকা-সহ ৩ জনকে ফাঁসির সাজা শোনাল শিয়ালদা আদালত। এর মধ্যে রয়েছেন সুরজিৎবাবুর প্রেমিকা লিপিকা পোদ্দার ও মাংসবিক্রেতা সঞ্জয় বিশ্বাস। সোমবার বিচারক রায় শোনানোর সময় বলেন, যে নৃশংসতায় খুন করা হয়েছে তাতে অন্য কোনও সাজা দেওয়া যায় না। 

২০১৪ সালের ২০ মে সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিট নাগাদ ২ বেওয়ারিশ ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার খণ্ড খণ্ড দেহ। ব্যাগটি উদ্ধার করেন অভিজিৎ সাহা নামে এক পুলিস আধিকারিক। একটি ব্যাগে ছিল একজন মহিলার ধড়। অন্য ব্যাগে ছিল মুন্ডু, ২টি হাত ও ২টি পা। ছিল না কোনও পোশাক। 

ব্যাগের ভিতর থেকে মেলা ক্যাশ মেমো থেকে পুলিস জানতে পারেন মহিলার নাম জয়ন্তী দেব। বাড়ি লেকটাউন। ততক্ষণে অবশ্য বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন স্বামী সুরজিৎ দেব। 

গঙ্গারামপুরে আগামিকালের অনাস্থা বৈঠক বাতিল ঘোষণা করল হাইকোর্ট

ঘটনায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে স্বামী সুরজিৎ দেব-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিস। তাঁদের জেরা করে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক কাহিনী। জেরায় সুরজিৎ জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল তাঁর। বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। বহুজাতিক সংস্থার কর্মী সুরজিৎবাবু লেকটাউনে ফ্ল্যাট কিনে থাকলেও তাঁর আদি বাড়ি বিরাটিতে। সেখানে থাকতেন তাঁর মা। স্ত্রী জয়ন্তীদেবীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মায়ের কাছে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী তাঁর কিশোরী মেয়েও  জয়ন্তীদেবীর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারত না। সে থাকত জ্যেঠুর বাড়ি। স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও করেন তিনি। কিন্তু মামলা খারিজ করে স্ত্রীর সঙ্গেই সুরজিৎবাবুকে থাকতে নির্দেশ দেয় আদালত। সেই মতো বিরাটি থেকে লেকটাউনে ফিরে আসেন তিনি। 

লেকটাউনে ফিরতেই ফের শুরু হয় স্ত্রীর নির্যাতন। ওদিকে বিরাটিতে থাকার সময় মায়ের আয়া লিপিকা পোদ্দারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুরজিৎবাবুর। এরই মধ্যে একদিন অশান্তি চরমে উঠলে জয়ন্তীদেবীর মাথায় ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করেন সুরজিতবাবু। তাতে আহত হন জয়ন্তীদেবী। চিৎকার করে ওঠেন। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে ছুটে এলে তাঁকে জ্যেঠুর বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি। বলেন, মা অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। 

এর পর লিপিকাকে ফোন করে ঘটনা জানান সুরজিৎবাবু। ফোন পেয়ে বিরাটি থেকে লেকটাউন ছুটে যান লিপিকা। অচেতন জয়ন্তীদেবীকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেন তিনি। দেহ লোপাট করতে ডাক পড়ে মাংস ব্যবসায়ী সঞ্জয়ের। লিপিকার পূর্বপরিচিত সঞ্জয় বিশ্বাসের বাড়ি রানাঘাটে। লিপিকারও বাড়ি সেখানেই। তাঁকে ১৫,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেহ লোপাট করতে ডাকা হয়। 

সঞ্জয় এসে দেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে। এর পর ট্যাক্সি ভাড়া করে দেহ গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। কিন্তু ব্যাগদু'টি শিয়ালদা স্টেশের সামনে পার্কিংয়ে রেখে চলে আসেন তাঁরা। 

ঘটনার তদন্তে নেমে দিন কয়েকের মধ্যেই সুরজিৎ, লিপিকা ও সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে পুলিস। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর এই মামলায় ৩ অপরাধীকেই ফাঁসির সাজা শোনালেন বিচারক।