ATM জালিয়াতি কাণ্ডে দিল্লির জেলে বন্দি আরও ১ রোমানিয়ানের খোঁজ পেল কলকাতা পুলিস

ধৃত সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিদোনকে আজ আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Reported By: অর্ণবাংশু নিয়োগী | Edited By: সুদেষ্ণা পাল | Updated By: Dec 10, 2019, 09:17 PM IST
ATM জালিয়াতি কাণ্ডে দিল্লির জেলে বন্দি আরও ১ রোমানিয়ানের খোঁজ পেল কলকাতা পুলিস
ধৃত সিলভিউ স্পিরিদোনকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে

নিজস্ব প্রতিবেদন : এটিএম কাণ্ডে (ATM Hacking) ধৃত সিলভিউ স্পিরিদোননকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরেক রোমানিয়ানের নাম জানতে পারল পুলিস। নাম তৌসিফ মৌরারু। বর্তমানে দিল্লির জেলে বন্দি রয়েছে সে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দিল্লি যাবে কলকাতা পুলিসের (Kolkata police) একটি দল।

পুলিস সূত্রে খবর, বর্তমানে রোহিনী জেলে বন্দি রয়েছে তৌসিফ মৌরারু। এদের ৫ জনের একটি দল রয়েছে। বাকিদের নাম সম্পর্কেও ধৃত সিলভিউকে জিজ্ঞাসবাদ করে পুলিস ইঙ্গিত পেয়েছে খবর। পুলিস জানতে পেরেছে, দিল্লিতে সিলভিউ যে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল, তার প্রতিদিনের ভাড়া ৪০০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমাসের ভাড়া ছিল প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এখন বিনা অনুমতিতে ভারতে থাকার জন্য তৌসিফকে আগেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিস। কিন্তু তারা জানেই না যে ধৃত তৌসিফ এটিএম জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় ধৃত সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিদোনকে আজ আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। পুলিসের তরফে ১৪ দিনের পুলিসি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। বিচারক ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার এটিএম কাণ্ডে প্রথম সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিদোন নামে এক রোমানিয়ানকে দিল্লির গ্রেটার কৈলাস থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিস। রীতিমতো নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করা হয় স্পিরিদোনকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রথমে সিলভিউকে চিহ্নিত করা হয়। দেখা যায় প্রধানত সকালের দিকে এরা এটিএম-এ ঢুকছে। সেই অনুযায়ী আজ ফাঁদ পাতে কলকাতা পুলিসের একটি দল। কাল সকালে গ্রেটার কৈলাসের একটি এটিএম-এর কাছে ভোর ৫টা থেকে অপেক্ষা করতে থাকে কলকাতা পুলিসের একটি টিম।

এদিকে ধুরন্ধর সিলভিউ সেখানে পুলিসের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরেই এটিএম কাউন্টার থেকে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে অটোয় উঠে চম্পট দেয়। সিলভিউয়ের পিছু নেয় পুলিসের টিম। অটো ধাওয়া করতে শুরু করে পুলিস। এরপর গ্রেটার কৈলাস এলাকায় একটি বাড়িতে ঢুকে লুকিয়ে পড়ে সিলভিউ। তারপর সেখানে ডোর টু ডোর নক করে অভিযুক্তের খোঁজ পায় পুলিস। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস জানতে পারে, ৩ বার ভারতে প্রবেশ করেছে সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিদোন। প্রতিবার দেড় মাস করে থেকেছে।

আরও পড়ুন, "কোন যুক্তিতে SC-ST বিল আটকালেন রাজ্যপাল, বোধগম্য হল না", পাল্টা তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রথমবার এটিএম দেখেছে। দ্বিতীয়বার স্কিমার লাগিয়েছে। আর শেষবার এই ১৪ অক্টোবর ভারতে এসে টাকা তুলতে শুরু করে হ্যাকারের দল। সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিদোন সহ সঙ্গীদের তিনজনের প্রত্যেকেই টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকেছে। ফ্ল্যাট থেকে ব্র্যান্ডেড দামি জামাকাপড়, চশমা, জুতো, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করে পুলিস। উদ্ধার হয় স্কিমিং ডিভাইস। সিলভিউ-ই ছিল পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড। তার পরিকল্পনা মতোই এটিএম নির্দিষ্ট করে স্কিমিং ডিভাইস বসানো হয়। তারপর শুরু হয় টাকা তোলার পর্ব।