)
রণয় তিওয়ারি: তাপস, কুন্তল ও নীলাদ্রিকে আদালতে পেশ করা হয় শুক্রবার। কুন্তল ঘোষ এর আইনজীবী মেহেদী নওয়াজ বলেন, সিবিআই চার্জ শিট পেশ করেছে।
বিচারক জানান চার্জশিটের কগনিজেন্স নেওয়া হয় নি। সিবিআই সময় চেয়েছে তাদের উত্তর দেওয়ার জন্য। সিবিআই ৩০ দিন চেয়েছে কিন্তু অত দিন দেওয়া যাবে না।
সিবিআই যে তাপস, কুন্তল ও নীলাদ্রির বিরুদ্ধে যে চার্জ শিট দিয়েছিল সেই দিন আদালত অবমাননার কথা বলেছিলেন বিচারক। সেই অবমাননা কেন করা হল তার জবাব দেবার জন্য আদালত ৩০ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন সিবিআই-কে। কিন্তু সিবিআই শুক্রবার ফের সময় চায়।
কুন্তল ঘোষ এর আইনজীবী মেহেদী নওয়াজ বলেন, ‘যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে সেটাও এখনও হওয়ায় ভাসছে। চার্জশিট এর মান্যতা যখন আদালত দেয় নি তখন আমরা ডিফল্ট বেল এর আবেদন করছি’। যেকোনও শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়।
তাপস মন্ডল এর আইনজীবী বলেন, ‘চার্জশিটের কগনিজেন্স নেওয়া হয় নি। যখন এর কগনিজেন্স নেওয়া হয়নি তেখন আমরা ধরে নিতে পারি কোনও চার্জশিট এখনও হয় নি। ওটা শুধুমাত্র একটা কাগজের টুকরো। এখনও তদন্তই শেষ হয়নি’।
এরপরেই আদালত থেকে বেরিয়ে ফের বিস্ফোরক কুন্তল ঘোষ। শুক্রবার আদালতে তিনি দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থা মিথ্যা কথা বলছে। তিনি বলেন, ‘ফাস্ট ফেব্রুয়ারি আমার যে স্টেটমেন্ট নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটা ইডি মিথ্যা কথা বলছে’।
তিনি আরও বলেন, ‘ইডি আদালত কে ফাঁসাচ্ছে। আমি একটা কথা বলব ইডি যে তদন্ত করছে, তাঁরা মিথ্যাচারের উপর দিয়ে তদন্ত করছে’।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয় সদ্য গ্রেফতার হওয়া সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র সম্পর্কে। সুজয় কৃষ্ণকে তিনি টাকা দিয়েছিলেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, একটা মানুষের সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক থাকতেই পারে’। এবং ইডি যেটা করছে সেটা তাঁরা বিজেপির ক্যাডার হয়ে কাজ করছে’।
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘তাঁদেরকে একটা কথা বলব তাঁরা পাবলিক সার্ভেন্ট, তাঁদের বস কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী নয়’।
কুন্তল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, ‘আজকে শুভেন্দু অধিকারির ফোন চেক করা হোক। ৩০ মে, তিনি কতবার ইডি অফিসারদের ফোন করেছিলেন’।
পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের ধৃত কুন্তল ঘোষের মুখে আবার নতুন নাম শোনা গিয়েছে। এবার নাম এসেছে রাখাল বেরার। তিনি বলেন, ‘ইডি যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরাকে গ্রেফতার করুক।
আলিপুরের সিবিআই এর বিশেষ আদালত থেকে কুন্তল ঘোষ কে যখন জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘শুভেন্দু অধিকারীর চেলা রাখাল বেরা। যদি তদন্ত সঠিক ভাবে এগোয় তাহলে আমি বলবো রাখাল বেরাকে অ্যারেস্ট করে দেখাক ইডি। রাখল বেরা যে, শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে টাকা তোলে’।
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও ১ ফেব্রুয়ারি আমার ইডির কাছে যে স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে যায় নোংরামি চলছে সেটা সামনে নিয়ে আসা হোক’।
রাখল বেরা শুভেন্দু হয়ে টাকা তুলতেন কিনা সেই প্রশ্নে তিনি বলেন রাখাল বেরা টাকা তুলতেন এবং কত টাকা তুলেছে তা ইডি দেখবে।
কুন্তলের দাবি, ‘আড়াল করার চেষ্টা চলছে কাউকে। মেদিনীপুর, মালদা সবাইকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে’।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজকে গোপাল দলপতি গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? কারণ তিনিও শুভেন্দুর লোক’।