এবারের ভোটে রাজ্যের নজরে উদয়ন ও রেজ্জাক

৬ দফায় সাতদিন ভোট। ফল ঘোষণা আগামী ১৯ মে। আর তাই এখন রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভাগ্য বন্দি রয়েছে বিভিন্ন স্ট্রংরুমে।

Updated By: May 18, 2016, 04:09 PM IST
এবারের ভোটে রাজ্যের নজরে উদয়ন ও রেজ্জাক

ওয়েব ডেক্স : ৬ দফায় সাতদিন ভোট। ফল ঘোষণা আগামী ১৯ মে। আর তাই এখন রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভাগ্য বন্দি রয়েছে বিভিন্ন স্ট্রংরুমে।

গত ২ মাস ধরে জেলায় জেলায়, শহরে শহরে, গ্রামে গ্রামে এমনকী পাড়া থেকে অলিগলি সর্বত্রই চলেছে প্রচার। হেভিওয়েট থেকে সাধারণ প্রার্থী, সকলেই নিজেদের জেতার বিষেয় ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। তবুও, একটি কেন্দ্রে জয়ী হবেন একজন প্রার্থীই। জয় পাবে একটি রাজনৈতিক দল।

তবে, এরমাঝে এমন কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন যারা, হেভিওয়েট বা বিতর্কের থেকে বেশি নজর কেড়েছেন তাঁদের চমকপ্রদ রাজনীতির জন্য।

প্রথমজন উদয়ন গুহ। কোচবিহার জেলার দিনহাট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী। পরের জন আব্দুর রেজ্জার মোল্লা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্রের প্রার্থী। দু'জনেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বামপন্থী ঘরানায় বড় হওয়া উদয়ন গুহ গত বিধানসভা নির্বাচনেও ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে লড়াই করে দিনহাটা থেকে বিধায়ক হন। ভরাডুবির মাঝেও সেখানে বাম ঐক্যকে ধরে রাখেন সেখানে। কিন্তু তারপর কী এমন ঘটল যাতে তিনি নিজের দলের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দেখিয়ে দলত্যাগ করলেন? যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে?

১) তাঁর অভিযোগ, দলের অন্দরেই একাংশ বাম ঐক্যের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। পরিবেশ নষ্ট করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হয়েই দল ছাড়েন।
২) তবে, ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি, ক্ষমতার লোভেই তিনি দলত্যাগ করেছেন। এবারের নির্বাচনে যদি, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ফের ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি একটি দায়িত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছেন। সেই লোভেই দলত্যাগ।

যদিও, পাওয়া না পাওয়ার মাঝে এই মুহূর্তে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি? নতুন দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে শুরু হয়েছে নাটাবাড়ির বিধাযক রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ঠান্ডা লড়াই। যুযুধান এই দুই নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের জেলায় একে অপরের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে সমস্যা। তবে, তা প্রকাশ্যে নয়।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কোচবিহার জেলায় যে এবারের নির্বাচনে সকলের নজর থাকবে উদযন গুহর দিকে তা কিন্তু বলাইবাহুল্য।

এতো গেল না হয় উদয়ন গুহর কথা। তিনি কোচবিহারের। কিন্তু, সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতিতে যে মানুষটি সবথেকে বেশি বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। ২০১৪ সালে সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই নানা ভাবে বিতর্কে জড়ান তিনি। তৈরি করেন একটি সংগঠনও। এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই বিতর্ক চলছিল তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবেই তাঁর আগের কেন্দ্র থেকে লড়বেন। কিন্তু, তার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সক্ষতা বেড়ে ওঠে। অবেশেষে ভাঙড় থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। কিন্তু, সেখানেও সমস্যা। ভাঙড়ে পৌঁছতেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আরাবুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীদের রোষের মুখে পড়তে হল তাঁকে। যদিও, তাদের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবি করেন দুই নেতা।

কিন্তু, সত্যিই কী তাই। কী বলছে বাস্তব? জানতে রাজ্যের মানুষকে আরও কযেক ঘণ্টা অপেক্রা করতে হবে।