আজকের নোবেলজয়ী গবেষক-অধ্যাপকই ৮ বছর আগে 'অনন্য সম্মান'-এ সম্মানিত

" একটা কথা শিখেছি যে গরিব দরিদ্রদের সম্বন্ধে অনেক কথা লোকে যেটা বলে, সেটা অনেকটা নিজে বাড়িতে বসে ভেবে বলে। দরিদ্রদের সঙ্গে সেটা যাচাই করে নেন না।"

Updated By: Oct 14, 2019, 07:53 PM IST
আজকের নোবেলজয়ী গবেষক-অধ্যাপকই ৮ বছর আগে 'অনন্য সম্মান'-এ সম্মানিত

নিজস্ব প্রতিবেদন : ফের নোবেল জয় বাঙালির। অমর্ত্য সেনের পর দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।  স্ত্রী এস্থার ডুফলো ও আরও এক অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারের সঙ্গে এবছর অর্থনীতিতে যুগ্মভাবে নোবেল পাচ্ছেন এমআইটি-র গবেষক। আজকের নোবলজয়ীকে আজ থেকে ৮ বছর আগে অনন্য সম্মানে ভূষিত করে সম্মানিত হয়েছিল ২৪ ঘণ্টা।

ইংরেজি ক্যালেন্ডারে সালটা ২০১১। বাংলায় ১৪১৭ বঙ্গাব্দ। সেদিন '২৪ ঘণ্টা অনন্য সম্মান ১৪১৭' সম্মানিত করেছিল এমআইটিতে অর্থনীতি নিয়ে গবেষণারত অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ নোবেল পাওয়ার পর জি ২৪ ঘণ্টাকে ফোনে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি যেমন বলেছেন, "নোবেল পাব, ভাবিইনি। অপ্রত্যাশিত।" সেদিন অনন্য সম্মানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে একইরকমভাবে বিনয়ের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে তুলে ধরেছিলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনন্য সম্মানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিজিৎবাবু সেদিন বলেছিলেন, "আমার ক্ষেত্রে এটা বেড়াল ভাগ্যে শিকে ছেঁড়া। আজ এই মঞ্চে যাঁরা সম্মানিত হয়েছেন, তাঁরা সত্যি সত্যিই গুণী। আমার ক্ষেত্রে আমি শুধু আমার চাকরি করি। আমার চাকরি হচ্ছে অর্থনীতি পড়ানো ও গবেষণা করা। যতটুকু তার থেকে শিখেছি, একটা কথা শিখেছি যে গরিব দরিদ্রদের সম্বন্ধে অনেক কথা লোকে যেটা বলে, সেটা অনেকটা নিজে বাড়িতে বসেই ভেবে বলে। দরিদ্রদের সঙ্গে সেটা যাচাই করে নেন না। আমি আমার কাজে দরিদ্রদের নিজেদের কথা কী, তাঁরা কী বলছেন, সেটাই একটু ভেবেছি।"

তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণায় বিশ্ব দারিদ্র দূরীকরণে দিশার খোঁজ করেছেন অভিজিৎ বাবু। সেই গবেষণার স্বীকৃতিতেই ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিনি। নোবেল পাওয়ার পরেও তাঁর কথায় উঠে এসেছে সেই দারিদ্র দূরীকরণের কথা-ই। দেশের কথা।

আরও পড়ুন, 'অপ্রত্যাশিত! সবার প্রথম বাবার কথাই মনে পড়ে', জি ২৪ ঘণ্টাকে প্রথম প্রতিক্রিয়া নোবেলজয়ীর

ফোনে জি ২৪ ঘণ্টাকে তিনি স্পষ্ট বলেন, "অনেক সময় ভোটের কথা, জনপ্রিয়তা, নাম কেনার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়। তা না করে ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে যেকোনও পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে আগে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। কোনও সরকারি প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা উচিত, তার মাধ্যমে কীভাবে সর্বাধিক সংখ্যক দেশের মানুষ উপকৃত হতে পারেন।"