কমছে জনপ্রিয়তা, একের পর এক বিতর্কে জেরবার অখিলেশ যাদব কি এবার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইছেন? অভিযোগ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

বিতর্কে জেরবার অখিলেশ সিং যাদব কি এবার সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে চাইছেন? একাধিক নিউজ চ্যানেলকে উত্তরপ্রদেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ সৈফই মহোত্‍সবের লাগাতার সমালোচনায় ক্ষিপ্ত মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। সেজন্যই কোপ পড়েছে কিছু চ্যানেলের সম্প্রচারে । সমাজবাদী পার্টি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Updated By: Jan 14, 2014, 10:05 PM IST

বিতর্কে জেরবার অখিলেশ সিং যাদব কি এবার সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে চাইছেন? একাধিক নিউজ চ্যানেলকে উত্তরপ্রদেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ সৈফই মহোত্‍সবের লাগাতার সমালোচনায় ক্ষিপ্ত মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। সেজন্যই কোপ পড়েছে কিছু চ্যানেলের সম্প্রচারে । সমাজবাদী পার্টি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ক্ষমতায় এসেছিলেন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। বিদেশ ফেরত, উচ্চশিক্ষিত, তরুণ-তুর্কী অখিলেশ যাদবের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল উত্তরপ্রদেশের মানুষের। মাত্র আটত্রিশ বছর বয়সী অখিলেশের চওড়া কাঁধে ভরসা রাখতে চেয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ। কতটা পূরণ হয়েছে সেই প্রত্যাশা?

সর্বভারতীয় এক দৈনিকের করা সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ৯৫.১১% মানুষ মনে করেন, প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ অখিলেশ যাদব। মাত্র ৩.৬৪% মানুষের মত, প্রত্যাশা মতোই কাজ করছেন মুলায়ম পুত্র। ১.২৪% মানুষ এনিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

মাত্র দেড় বছরে এভাবে জন সমর্থন হারানোর মূলে আছে একের পর এক বিতর্ক। শুরুটা হয়েছিল আইএএস অফিসার দুর্গাশক্তি নাগপালকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে। অভিযোগ, বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিলেন দুর্গাশক্তি নাগপাল। প্রশ্ন ওঠে, অখিলেশ প্রশাসনের দুর্নীতি বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কি অপরাধ? চাপে পড়ে শেষপর্যন্ত ওই সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় উত্তরপ্রদেশ সরকার।

পরের ঘটনা আরও মারাত্মক। গতবছর সেপ্টেম্বরে মুজফফরনগর হিংসায় প্রাণ হারান বহু মানুষ। আজও ঘরছাড়া অনেকে। কনকনে শীতেও ত্রাণ শিবিরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ত্রাণ শিবির, যা নিয়েও অভিযোগ কম নেই। এখনও পর্যন্ত ৪০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে শরণার্থী শিবিরে। উঠেছে অব্যবস্থা, অবহেলার অভিযোগ।
একদিকে যখন মানুষের মাথায় ছাদ নেই, তখন সরকারি টাকায় সৈফইয়ে উত্‍সবের আয়োজন বিতর্ক কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এসবের মধ্যেই আবার অখিলেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং দলের বিধায়করা ব্যস্ত বিদেশ ভ্রমণে। সরকারের যুক্তি, পরিষদীয় রীতিনীতি শিখতে নাকি জরুরি ওই সফর!
সমালোচনার ঝড় সামলাতেই কি উত্তরপ্রদেশে সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে ব্যস্ত অখিলেশ যাদব? সেই কারণেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি নিউজ চ্যানেলের সম্প্রচার?

সমাজবাদী পার্টি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

লোকসভা ভোটের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগে নানা বিতর্কে জড়িয়েঅখিলেশ সরকারের জনসমর্থনে ধস স্বাভাবিকভাবেই চাপে রেখেছে সমাজবাদী পার্টিকে।