মসজিদ ভেঙেছিল 'দুষ্কৃতীরা'; ষড়যন্ত্র করে ধ্বংস করা হয়নি বাবরি, জানাল আদালত

 মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ষড়যন্ত্র ছিল এমনটাও সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যপ্রমাণ থেকে প্রমাণ হয় না।

Updated By: Sep 30, 2020, 06:17 PM IST
মসজিদ ভেঙেছিল 'দুষ্কৃতীরা'; ষড়যন্ত্র করে ধ্বংস করা হয়নি বাবরি, জানাল আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদন: মসজিদ ভেঙেছিল 'দুষ্কৃতীরা', অভিযুক্তরা উন্মত্তদের থামাতে গিয়েও ব্যর্থ হন। বাবরি মামলায় রায় দিতে গিয়ে এমনটাই জানাল সিবিআই বিশেষ আদালত। পাশাপাশি মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ষড়যন্ত্র ছিল এমনটাও সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যপ্রমাণ থেকে প্রমাণ হয় না।

বাবরি ধ্বংসের আঠাশ বছর পর এই রায়ের ফলে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন আডাবানি, যোশী, উমা ভারতীরা। বিশেষ সিবিআই আদালত আজ জানিয়েছে-

-বাবরি মসজিদ ধ্বংস পরিকল্পনা করে হয়নি।

-অভিযুক্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

-ফোটো ও অডিয়োর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি সিবিআই।

-যারা মসজিদের গম্বুজের ওপরে উঠেছিল তারা দুষ্কৃতী।

ঘটনার সময় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের অডিয়ো স্পষ্ট নয়।

কী অভিযোগ ছিল আডবানিদের বিরুদ্ধে

বাবরি মামলায় ৩২ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাঁরা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং করসেবকদের উস্কানি দিয়েছিলেন।

অভিযোগ ছিল, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি ভাঙার সময়ে মসজিদ চত্বরে তৈরি মঞ্চে ছিলেন আডবানি, যোশী, উমা ভারতীরা। তদন্ত জানানো হয় মঞ্চ থেকে করসেবকদের উত্তেজিত করেছিলেন বিজেপি নেতারা।

গত ২৪ জুলাই ভিডিয়ো কন্ফারেন্সের মাধ্যমে নিজের বয়ান রেকর্ড করেন আডবানি। সেখানে তাঁকে ১০০ প্রশ্ন করেন সিবিআই বিচারক।  তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আডবানি। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সশরীরে হাজিরার পরিবর্তে ভিডিয়ো কন্ফারেন্স আদালতের কাজে যোগ দেন তিনি।

১৯৯২ সালে করসেবকদের হাতে বাবরি ধ্ংসের পর প্রথমিকভাবে ২টি মামলা হয়। পরে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৯। প্রাথমিক দুটি মামলার দ্বিতীয়টিতে আডবানি, যোশী ও উমা ভারতীয় নাম করা হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ সিং,স্বাধ্বী ঋতম্ভরা, বিনয় কাটিযার।

১৯৯৩ সালে বাবরি ধ্বংসের প্রথম চার্চশিট দেয় সিবিআই। সেই চার্জশিটে অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল ৪৮ জনের। তালিকায় ছিল বাল ঠাকরে, কল্যাণ সিংয়ের নামও। অভিযুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতকে নির্দেশ দেয় নিয়মিত শুনানি করে মামলার নিস্পত্তি করতে হবে। 

কীভাবে তৈরি বাবরি

মুঘল সম্রাট বাবরের আমলে এই মসজিদটি তৈরি করেন তাঁর সুবেদার মির বাকি। তবে ঠিক কবে বাবরি তৈরি হয়েছিল তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।  ঐতিহাসিকদের একটি মহল দাবি করে, মসজিদটি তৈরি বাবরের আমলে হয়নি। সেটি তৈরি করা হয়েছিল ঔরঙ্গজেবের আমলে।