)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যোগীরাজ্যে বেহাল পরিবহনের চিত্র। বিনা পারমিট-বিমা ছাড়াই যাত্রী নিয়ে চলছে ভাঙাচোড়া বাস। স্লিপার বাস এবং একটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ। ভয়ংকর দুর্ঘটনায় মারা যান ১৮ জন, গুরুতর আহত ১৯ জন। ঘটনাটি ঘটে,লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে। ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
এই দুর্ঘটনার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, বাসের কাগজে যে ঠিকানা দেওয়া আছে, তা সম্পূর্ণভাবে ভুয়ো। এমনকি বাসটির না আছে কোনও বিমা, আর না পারমিট। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাসটি মহোবা জেলায় এক কৃষকের নামে নথিবদ্ধ।
জানা গিয়েছে, ওই কৃষকের নাম শিবনারায়ণ সিং। যিনি শিবহারের বাসিন্দা। দিল্লির বাসিন্দা চন্দন জয়সওয়াল পাহাড়গঞ্জ থেকে বাস চালাত। ঘটনার পর আরটিও অফিসার বেহতা মুজাওয়ার থানায় বাস মালিকের নামে এফআইআর দায়ের করেছেন।
বাসটি টুরিস্ট পারমিটের নামে চালানো হচ্ছিল। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী এই বাসের আন্তঃরাজ্য চালানোর পারমিট ছিল না। নমস্তে বিহার নামের এই বাসটি দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে, এটির অবস্থা খুবই খারাপ। বাসের ভাঙা জানালায় কাঁচের পরিবর্তে বসানো প্লাইবোর্ড। বাসে অন্যান্য সুবিধারও অভাব ছিল।
প্রসঙ্গত, বিহার থেকে দিল্লিগামী বেশিরভাগ বাসেরই পারমিট নেই বলে জানা গিয়েছে। বহু বাস মালিকরা পরিবহন দফতরকে টাকা দিয়ে ট্যুরিস্ট পারমিটের নামে বাস চালায়। বিহার থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া প্রাইভেট বাসগুলিতে আইনগত দিকগুলি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই আসছে বাস দুর্ঘটনার খবর। এর আগেও বিহার থেকে ইউপি ও দিল্লিগামী বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কীভাবে?
বুধবার সকাল ৬ টা নাগাদ বিহারের শেওহর থেকে দিল্লিগামী মহোবা জেলার ট্রাভেল কোম্পানির স্লিপার বাসটি বেহতা মুজাওয়ার থানা এলাকার জোগিকোট গ্রামের সামনে বিমান ঘাটিতে পৌঁছায়। লখনউ থেকে আগ্রার দিকে যাওয়া একটি দুধের ট্যাঙ্কারকে ওভারটেক করে। সেই সময় বাসের গতিবেগ অনেকটাই ছিল। ফলত, ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির ভয়ংকর সংঘর্ষ হয়। বাসে শিশুসহ প্রায় শতাধিক যাত্রী বসে ছিলেন। সিটে বসা ও শুয়ে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৮ জন মারা যান, আহত হন ১৯ জন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)