ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলেছে দলের বারো নম্বর সদস্য

 সেই বিশ্লেষণই তাদের বিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করেছে।

Updated By: Jul 15, 2018, 08:31 PM IST
ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলেছে দলের বারো নম্বর সদস্য

নিজস্ব প্রতিনিধি : মাত্র ৪৫ লক্ষ মানুষের বাস সেখানে। কিন্তু সেই ৪৫ লক্ষ মানুষই হয়তো ফুটবলপ্রেমী। আর তাই জন্যই ক্রোয়েশিয়া আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে। মাঠে খেলছেন এগারোজন। কিন্তু মাঠের বাইরে সেই এগারোজনের জন্য গলা ফাটাচ্ছেন ৪৫ লক্ষ মানুষ। যদিও মদ্রিচ, রাকিটিচ, পেরিসিচদের ফুটবল দক্ষতা ও ক্রোয়েশিয়ার জনসাধারণের ব্যাপক ফুটবলপ্রেম ছাড়াও আরও একটা ব্যাপার তাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেছে। আর সেটা হল উন্নত প্রযুক্তি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াই একমাত্র দল যাঁরা 'স্ট্যাটস এজ' নামের এক মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রতি ম্যাচের খুব উন্নত বিশ্লেষণ করেছে। আর সেই বিশ্লেষণই তাদের বিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন-  পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া!

এই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ম্যাচ বিশ্লেষণের আগে ৫ ঘণ্টার 'কোডিং' করা হয়। সেই কোডিং-এর সাহায্যেই বিপক্ষ দলের শক্তি-দুর্বলতা মেপে নেওয়া হয়। পরবর্তী ৫ ঘণ্টায় আবার সেই কোডি মিলিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিপক্ষ দলের ভিডিও বিশ্লেষণ তো আছেই। নিজেদের এই অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে সংস্থার সহ-সভাপতি ড. প্যাট্রিক লুসে বলছিলেন, ''ক্রোয়েশিয়াই আমাদের প্রথম ক্রেতা। আমাদের এই প্রযুক্তির উপর বিশ্বাস রাখার জন্য ওদের অনেক ধন্যবাদ। বিশ্বকাপ সম্প্রচারে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তার থেকে আমাদের টেকনোলজি উন্নত। ম্যাচের পুরো চিত্র এবং কার জেতার সম্ভাবনা বেশি, আমরা প্রায় সবটাই তুলে ধরতে পারি।''

আরও পড়ুন-  রাশিয়ার শেষ কাতারের শুরু ...

প্রযুক্তির ব্যবহারকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। আমেরিকার শিকাগো শহরের এই আইটি ফার্মের তৈরি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপক্ষ দলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশেষ মুহূর্তে তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে, সব কিছুই তাদের অতীত ইতিহাসের বিচারে নির্ণয় করা যায়। এই যেমন, ইংল্যান্ড দলটা পুরো বিশ্বকাপে বেশ ভালই খেলেছে এবং ম্যাচে ৫৩ শতাংশ বল দখল রেখেছে। হাই-প্রেসিং ফুটবলে তাদের সাফল্য আসছিল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই ইংল্যান্ডই অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় বলের দখল কম রাখল। এবং খেলার ধরন বদলাতেও বাধ্য হল। শুধু তা–ই নয়, দুই দলের প্রত্যাশিত গোলের ক্ষেত্রেও ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে। ইংল্যান্ডের যেখানে .৭ সেখানে ক্রোয়েশিয়ার ২.৪।

আরও পড়ুন-  বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভালুকের ভবিষ্যদ্বাণী !

এই প্রযুক্তি আমেরিকার বাস্কেটবল, ফুটবল, বেসবল খেলায় পরিচিত। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে এখনো এই প্রযুক্তির তেমন একটা জনপ্রিয়তা নেই। তবে ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ জিততে পারলে হয়তো এই প্রযুক্তি নিয়ে ভাবতে বসবে অন্য দলগুলো।