'মুরোদ' নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন, মাঠেই অজিদের জবাব বিরাটের, সিরিজে ফিরল সমতা

তবে ম্যাচটা শিখর-বিরাটের নয়, বরং পাঁচে নেমে নিজের জায়গা আরও পোক্ত করলেন কেএল রাহুল।

Updated By: Jan 17, 2020, 10:30 PM IST
'মুরোদ' নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন, মাঠেই অজিদের জবাব বিরাটের, সিরিজে ফিরল সমতা

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রথম ম্যাচে বিশ্রী হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল টিম ইন্ডিয়া। রাজকোটে মরণবাঁচন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬ রানে  জিতে সিরিজে সমতা ফেরালেন বিরাটরা। ৩ ম্যাচে সিরিজের ফল ১-১। অ্যালেক্স কারি ও স্টিভ স্মিথের শিকার করে একদিনের ক্রিকেটে ১০০ উইকেট নিলেন কুলদীপ যাদব।  

প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০ উইকেটে হেরে রীতিমতো পর্যূদস্ত হয়েছিল ভারত। বিরাটরা যে ফর্মে রয়েছে, তাতে মানসম্মান নিয়ে শুরু হয়েছিল টানাটানি। নিন্দুকরা বলাবলি শুরু করেছিলেন, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর মুরোদই আছে। অস্ট্রেলিয়া আসতেই বেরিয়ে পড়ল হাড়কঙ্কাল। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেই সিরিজ খোয়াতে হত।  এমন নানাবিধ  চ্যালেঞ্জ নিয়ে এদিন মাঠে নেমেছিলেন বিরাটরা। ওপেনিংটাও জমাটি করেছেন শিখর ধবন ও রোহিত শর্মা। তবে সেট হয়েও জাম্পার বলে ৪২ রানে ফিরে যান শর্মাজি। গত ম্যাচের ভুল শুধরে নিজের পছন্দের জায়গা  তিনে নামেন বিরাট কোহলি। রানও পেয়েছেন। তিনে বিরাটের যে কোনও বিকল্প নেই, সেটা ক্যাপ্টেন নিজেও এদিন সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন। তবে শতরানটা হাতছাড়া হয়েছে। ৭৮ রানে জাম্পার বলে হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের আগে তালুবন্দি হন অধিনায়ক। শতরান থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থেমে যান শিখর।     

তবে ম্যাচটা শিখর-বিরাটের নয়, বরং পাঁচে নেমে নিজের জায়গা আরও পোক্ত করলেন কেএল রাহুল। ব্যর্থ হওয়ার পরেও তাঁকে সুযোগ দেওয়ায় বিরাটের বিরুদ্ধে উঠেছিল বন্ধুপোষণের অভিযোগ। সেই অভিযোগ থেকে অধিনায়ককে মুক্তি দিচ্ছেন রাহুল। প্রতিটি ম্যাচেই ব্যাটে ছাপ ফেলছেন দক্ষিণী ডান হাতি। এদিন আবার অনভ্যস্ত মিডল অর্ডারে নেমে ৫২ বলে খেললেন ৮০ রানের একটা ইনিংস। রাহুলের ইনিংসটা না থাকলে দলের স্কোর তিনশো পেরোত না। স্বাভাবিকভাবে তাঁকে ছাড়া ম্যান অব দ্য ম্যাচ বাছার কোনও সুযোগ ছিল না। 

দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ মুঠোয় পুরতে অস্ট্রেলীয়দের দরকার ছিল ৩৪১ রান। দলটার নাম যখন অস্ট্রেলিয়া তখন টার্গেটটা কঠিন নয় মোটেই। তার উপরে গত ম্যাচে আর কাউকে পাঠে নামার সুযোগই দেননি ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। ফর্মে থাকা ওয়ার্নারকে ফেরালেন মহম্মদ সামি। তবে উইকেটটা যতটা না সামির তার চেয়ে বেশি মনীশ পান্ডের। শূন্যে এক হাতে দারুণ একটা ক্যাচ ধরেছেন। ফিঞ্চও  ফিরলেন ৩৩ রানে। স্ট্যাম্পিং করলেন রাহুল। সৌরভের ফর্মুলাতেই কেএল রাহুলকে কিপিংয়ে কাজে লাগাতে চাইছে টিম ইন্ডিয়া। ফলে পন্থের ফেরার রাস্তাটা কঠিন হচ্ছেন। রাহুলকে কিপিংয়ে রাখলে অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান বা অলরাউন্ডার খেলানোর সুযোগ থাকছে। লাবুশানে ও স্টিভ স্মিথ ম্যাচের হাল ধরেন। লাবুশানে ফিরলেও স্মিথ লড়াই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় শিবিরে। তবে ৯৮ রানে স্মিথ ফিরতেই ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ৩০৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ভারত জিতল ৩৬ রানে। অধিনায়কের মুখে চওড়া হাসি। রাতের ঘুমটা অন্তত বাঁচল।    

আরও পড়ুন- বোর্ডের সেন্ট্রাল কনট্র্যাক্ট থেকে বাদ, এবার কি ঝাড়খণ্ডের হয়ে রঞ্জি খেলবেন ধোনি?