জিভা আমাকে শুধরে দিয়ে বলল, মাম্মি FATHER মানে বাবা নয়, ধোনি!

Updated By: Mar 28, 2016, 05:15 PM IST
 জিভা আমাকে শুধরে দিয়ে বলল, মাম্মি FATHER মানে বাবা নয়, ধোনি!

মোহালিতে রবিবার খোয়াজা আর ফিঞ্চ যেভাবে শুরু করেছিল, তাতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভাবলাম, তাহলে কী শেষ! কিন্তু না, আমিও যে আপনাদের মতো ভরসা রাখি ক্যাপ্টেন কুলের উপর। সে ঠিক বিপদ থেকে রক্ষা করবে। হলোও তো তাই। ৬ ওভারে ৫৯ থেকে অস্ট্রেলিয়া শেষ করল, ১৬০-এ। আপনাদের ধোনি যা খেলল, তারপর আমার জীবনের একটা ব্যক্তিগত গোপন কথা বলে দেই। আমিও তো আপনাদের মতো রোজ খেলা দেখি, কিন্তু এই, সেদিন সন্ধেবেলায় জিভাকে নিয়ে একটু কোলে কোলে ঘুরতে ঘুরতে পড়াচ্ছিলাম। ওই A, B, C, D এই সব। আপনাদের মতো করেই আতা গাছে তোতা পাখি বা খোকা গেল মাছ ধরতে সঙ্গে যাবে কে..? তারপর দুএকটা ইংরেজি শব্দের মানেও বলে দিচ্ছিলাম, ওকে। এই যেমন MOTHER মানে মা। FATHER মানে বাবা। ওমা, যেই বলতে গিয়েছি এই কথাটা, ছোট্ট জিভা আদো আদো স্বরে আমায় দিব্বি বলে দিল, 'মাম্মি, মাম্মি FATHER মানে বাবা নয়, ধোনি!'

শুনে আমি হাসবো নাকি কাঁদবো!আপনারাই বলুন? আমার মেয়ে জিভা কিনা বলছে, FATHER মানে, বাবা নয়, FATHER মানে, ধোনি! সবসময়ই এই কথাটা শুনে এসেছি যে, আজকালকার ছেলে-মেয়েরা খুব অ্যাডভ্যান্স। ওদের কথা শুনে হাঁ হয়ে যেতে হয় সবাইকে। এতদিন অন্যের ছেলে-পিলেদের দেখে সেই কথা ভাবতাম। বলতামও মনে মনে, 'বাব্বা, কী পাকা, কী পাকা'। এখন আর অন্যের ছেলে-মেয়েকে দেখে এই কথা ভাববো কী! নিজের ঘরেই তো পাকারাম বড় হচ্ছে।

পরে অবশ্য জিভা যখন রাতে ঘুমিয়ে পড়লো, ওর কপালে হাত বুলিয়ে দিয়ে, ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে যখন বিছানা থেকে নামতে গেলাম, সেই সময় আমাদের ঘরের দেওয়ালে আমাদের তিনজনের ছবিটার দিকে চোখ পড়ল। আমি, জিভা আর আপনাদের ধোনি। অস্ফূটে কীভাবে যেন আমার ঠোঁটটা নড়ে উঠে বলল, FATHER মানে ধোনি! খুব হাসলাম, বুঝলেন তো। আপনারা যদি অভয় দেন, তাহলে আর শেখাবো না যে, FATHER মানে বাবা। জিভা বরং এটাই শিখুক যে, FATHER মানে ধোনি। ওর বাবার সত্যিই বোধহয় এটুকু প্রাপ্য। আজ শুধু মা হয়ে জীবনের পরিপূর্ণতা বুঝছি তা নয়, মনে মনে ছোট্ট মেয়েটার জন্য স্ত্রী হিসেবে গর্বিত হলাম। ঈশ্বর যেন, সব জন্মেই আমাকে ধোনির স্ত্রী হওয়ার জন্যই পৃথিবীতে পাঠান। এই আশির্বাদ করুন। আর সবশেষে কথা দিচ্ছি, প্রতিবারের আইপিএলে আমায় শুধু একা একা গ্যালারি থেকে চেচাঁতে দেখতেন। আর কয়েকটা দিন। দেখবেন এবার আমরা মা-মেয়ে কীভাবে মাঠ মাতিয়ে দেব।

(এটা কাল্পনিক লেখা। লিখলেন স্বরূপ দত্ত।)