close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

টালির চালা ঘরে জ্বলে ১টা আলো, ১টা পাখা! বিল এল ২ লাখ ৯৪ হাজার

জুন, জুলাই, অগাস্ট মিলিয়ে ৩ মাসের মোট বিল আসে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৯৮ হাজার টাকা করে বিল এসেছে।

Updated: Sep 19, 2018, 05:33 PM IST
টালির চালা ঘরে জ্বলে ১টা আলো, ১টা পাখা! বিল এল ২ লাখ ৯৪ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদন : টালির চালার ঘর। সেই ঘরে ১টা বাল্ব, ১টা পাখা আর একটা টিভি রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই আবার টিভিটা চলে না। খারাপ হয়ে পড়ে থাকে। এদিকে, সেই বাড়িতেই ইলেক্ট্রিকের বিল এল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬ টাকা। এমন ভূতুড়ে ইলেকট্রিক বিল পেয়ে বেজায় বিপাকে পড়েছেন বাবলু পাত্র।

আরও পড়ুন, দেওয়ালে 'অদ্ভূতুড়ে' হাতের ছাপ! স্কুলের বাথরুমে নাকি ভূত আছে...

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার কদমবাঁধি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু পাত্র। পেশায় দিন মজুর। আর্থিক অবস্থা বলার মতো কিছুই নয়। বাবলু জানিয়েছেন, প্রতি তিন মাস অন্তর বিল আসত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। সেই টাকা মেটাতে গিয়েই মাঝে মাঝে হিমশিম খেতেন তিনি। আচমকা জুন, জুলাই, অগাস্ট মিলিয়ে ৩ মাসের মোট বিল আসে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ইলেকট্রিক অফিস থেকে বাড়িতে এসে বাবলু পাত্রের হাতে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিলে টাকার অঙ্ক দেখে মাথায় হাত পড়ে বাবলু পাত্রের। ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হয় তাঁর। বিলে দেখা যায়, জুন-জুলাই-অগাস্ট, প্রতি মাসেই গড়ে সাড়ে ৯৮ হাজার টাকা করে বিল এসেছে।

বাবলু পাত্রের নামে ইলেক্ট্রিক বিল

বাবলু পাত্রের অভিযোগ, এই ঘটনায় বহুবার ইলেক্ট্রিক অফিসের তদ্বির করেন তিনি। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। বিল মেটাতে না পারায় বিদ্যুতকর্মীরা এসে তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে গিয়েছে। এরফলে গত ১ মাস ধরে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাকে নিয়ে ঘরের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাবলু পাত্র।

অন্ধকারে যখন তখন সাপের উপদ্রব হচ্ছে। শিকেয় উঠেছে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা। বাবলু পাত্র জানান, বহুবার ইলেক্ট্রিক অফিসে আবেদন নিবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু কেউ কোনও পাত্তা দেয়নি। ফলে সমস্যারও কোনও সমাধান হয়নি। উল্টে তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।

আরও পড়ুন, মায়ের পাশে ঘুমিয়েছিল ৯ মাসের শিশু, ঘুমের ঘোরে হামাগুড়়ি দিয়ে পড়ে মৃত্যু

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একবার আত্মহত্যাও করতে গিয়েছিলেন বাবলু। কোনওভাবে সে যাত্রা রক্ষা পান তিনি। এখন কী করবেন, না করবেন, কিছুই ভেবে উঠতে পারছেন না। এই বিষয়ে আমলাগড়া ইলেক্ট্রিক অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারাও মুখে কুলুপ এঁটেছে। কোনও মন্তব্য করতে চাননি।