সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন পূজা, প্রেমিকের পর গ্রেফতার আরও এক

আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজে দুজনকে নিয়ে রাতভোর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও চালায় পুলিস। সৌমেনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকটি ৷

Updated By: Jan 31, 2019, 08:42 AM IST
সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন পূজা, প্রেমিকের পর গ্রেফতার আরও এক

নিজস্ব প্রতিবেদন : সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই খুন হতে হয়েছে সোনারপুরের বোসপুকুর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী পূজা মহাজনকে৷ মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পিয়ারলেস হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিত্সাধীন ছিল পূজা। মৃত্যু হয়েছে ২১ বছর বয়সী ওউ কলেজ ছাত্রীর। ইতিমধ্যেই গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সৌমেন কয়ালকে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে সুকুমারের নাম। সৌমেনকে সাহায্য করেছিল এই সুকুমার। রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস৷

আরও পড়ুন - অন্য যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কলেজছাত্রী প্রেমিকাকে গুলি প্রেমিকের

দীর্ঘদিন ধরেই পূজার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সোনারপুরের পুর্ব ঘাসিযাড়ার বাসিন্দা সৌমেন কয়ালের৷ একে অপরের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল৷ সম্প্রতি টালিগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে পূজার সম্পর্ক তৈরি হয়। আর তারপর থেকেই সৌমেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর সম্পর্কের অবনতি হয়। সৌমনকে এড়িয়ে চলছিল পুজা৷ জানা যায়, অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় পূজার৷ তারপরেই দুজনের মধ্যে তৈরি হয় মতবিরোধ৷ সৌমেনকে আগের মতো সময় না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে ঝামেলা বাধে৷ অভিযোগ, তারপর থেকেই পূজাকে হুমকি দেওয়া শুরু করে সৌমেন। বাড়িতে গিয়ে পূজাকে হুমকি দেয় সে। তারপরই মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীর উপর হামলা করে সে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ গোড়খাড়া ঘোষপাড়া দিয়ে বাড়ির দিকে এগোচ্ছিল পূজা মহাজন। সেই সময় আচমকা বাইকে চেপে দুই যুবক তার সামনে আসে। প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ওই দুই যুবকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় ওই ছাত্রীর। সেই সময়ই এক যুবক পকেট থেকে পিস্তল বার করে ছাত্রীর মাথায় গুলি করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পূজা মহাজন। স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাইরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পূজাকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন - ডুর্য়াসের নরখাদক চিতবাঘকে 'মৃত্যুদণ্ডে'র নির্দেশ!

গুলি চলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমিক সৌমেন কয়ালকে। বুধবার সৌমেনকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে আট দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বেরিয়ে আসে সুকুমারের নাম৷ সৌমেনকে এই কাজে সাহায্য করেছিল তার আর এক বন্ধু সুকুমার দে৷ রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস৷ আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজে দুজনকে নিয়ে রাতভোর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও চালায় পুলিস। সৌমেনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকটি ৷ তবে আগ্নেয়াস্ত্রের কোনও হদিস এখনও মেলেনি। তার খোঁজে তল্লাসি চালাচ্ছে পুলিস। আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে পেল, এর পিছনে আর কেউ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷