)
অনুপ দাস: ধন্বন্তরি? গরিবের ভগবান? হ্যাঁ, এইরকম নানারকম নামে পরিচিত তিনি। হবেন না-ই বা কেন? ২ টাকায় রোগীর চিকিৎসা করতেন, সঙ্গে দিতেন ওষুধও। এখন নেন ১০ থেকে ১২ টাকা। আজও রোগীর চিকিৎসা করে দেন ওষুধ।
আর যখন চিকিৎসা করতে হয় না? তখন প্রয়োজনে প্রেসারও মেপে দেন। আগে প্রেসার মাপতে নিতেন ১ টাকা! এখন প্রেসার মাপেন ৭ টাকার বিনিময়ে।
কে তিনি?
ইনি কৃষ্ণনগর শহরের ৯২ বছরের বসাক ডাক্তার। সন্তোষকুমার বসাক। ২০ বছর বয়স থেকে চিকিৎসা করে আসছেন। নদিয়ার কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণকেন্দ্রে পোস্ট অফিস মোড় এলাকায়। এলাকায় সকলের পরিচিত তিনি। বসাক ডাক্তার এই এলাকার একটা অভিজ্ঞান যেন।

৭২ বছর ধরে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যে দু'বেলা চেম্বারে বসছেন, কোনও ছেদ নেই। জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট ব্যথা-সহ বিভিন্ন সাধারণ সমস্যা নিয়ে নিত্য তাঁর চেম্বারে ভিড় জমান রোগীরা। ধৈর্য ধরে বসে সকলের চিকিৎসা করেন তিনি।
বসাক ডাক্তার প্রেসার মাপেন, আবার নাড়ি টিপেও দেখেন। কিছু সমস্যা বুঝলে কৌটো খুলে শুধু কয়েকটি খাওয়ার বড়ি বের করে রোগীর হাত দিয়ে দেন। কখনও প্রয়োজনে বড়ি ভেঙে আধখানা করেও দেন। সব রোগীকেই 'তুই' বলে কথা বলেন। ওষুধগুলি রোগীর হাতে দিয়ে বলেন, এগুলো খেয়ে নিবি, আর আসতে হবে না, ভালো হয়ে যাবে।
আর স্বয়ং রোগীরা কী বলছেন?
রোগীরা বলেন, আগে তাঁরা বাবা-মায়ের হাত ধরে আসতেন। এখন নিজেরা আসেন। বাবা-মায়ের জন্যও ওষুধ নিয়ে যান, নিয়ে যান নিজেদের জন্যও। তাঁদের কাছে সন্তোষকুমার বসাক 'গরিবের ভগবান' বলে পরিচিত, পরিচিত 'ধন্বন্তরি' বলেও। তাঁর ওই কৌটোও একটা ফেনোমেনন, একটা রহস্য। বসাক ডাক্তারের কাছে দেখাতে আসা লোকজন এটাকে বলে থাকেন-- ধন্বন্তরির কৌটোর বড়ি।
আরও একটা বিশেষ কারণে সন্তোষকুমারবাবুর উপর ভরসা করেন এলাকাবাসী। যে-রোগটা তাঁর কাছে সারবে না বলে মনে করেন সন্তোষবাবু, সেটা সংশ্লিষ্ট রোগীকে স্পষ্ট করে বলে দেন। রোগী হাতে রেখে দেন না। বলেন, 'বড় ডাক্তার দেখা'!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)