ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপনে এবছর যখন মহাসমারোহ, তখন খোদ সরকারি সংস্থার নির্দেশে পুজোর ঠিক একমাস আগে উত্তর কলকাতার অন্যতম বড় পুজোর মণ্ডপ খুলে ফেলার নজির বিরল।
ফসল তোলার উৎসবে মিশে যায় ভোরের স্নান আর 'খড়ের বুড়ি'র গায়ে আগুন দেওয়ার ঐতিহ্য!
তবে এবছর বাড়িতে বসেই বেলুড়ের পুজো দেখতে পাবেন সকলে। ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার হবে বেলুড় মঠের পুজো। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজোর নির্ঘণ্টও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ২২৫টি ব্রিজ মেরামতির জন্য যে খরচ হবে, তা অর্থ দফতর অনুমোদন করেছে।
এবার ৮৪১৪ মেগাওয়াট চাহিদা ধরা হয়েছে পুজোর দিনগুলিতে।
পাপারাৎজির ক্যামেরাবন্দি হন সারা আলি খান।
ভক্তদের দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
পুজোর সময় অতুলের পাশে অলভিরা খান অগ্নিহোত্রীকেও বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
শারদীয়া উত্সবকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে নতুন করে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। সেই লক্ষ্যেই বিসর্জনের আগে আজ চোখ ধাঁধানো শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে রেড রোডে। থাকবে বাছাই করা চৌত্রিশটি দুর্গা প্রতিমা। বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে। তারজন্য বৃহস্পতিবার রাতভর চলল প্রস্তুতি। রেড রোডের মঞ্চে চেয়ার পাতা, আলো এবং সাউন্ড সিস্টেম লাগানোর কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে ফিনিশিং টাচ পর্ব। রেড রোড সজ্জার প্রস্তুতিও চলছে জোর কদমে।
পুজো শেষ। তাতে কী। একাদশীর সকালেও তাই ভিড় উপচে পড়ল শহরের বড় পুজোগুলিতে। চেতলা অগ্রণী থেকে নাকতলা উদয়ন সংঘ, সব জায়গায় একই ছবি। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগে সহজেই মণ্ডপে পৌছে যাচ্ছেন অনেকে। সুযোগ নিচ্ছেন প্রতিমা বিসর্জন না হওয়ার। কেউ বলছেন, পুজোর সময় ভিড় এড়াতেই একাদশীর সকালটাকে বেছে নেওয়া। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগে সহজেই মণ্ডপে পৌছে যাচ্ছেন অনেকে। সুযোগ নিচ্ছেন প্রতিমা বিসর্জন না হওয়ার। কেউ বলছেন, পুজোর সময় ভিড় এড়াতেই একাদশীর সকালটাকে বেছে নেওয়া।
প্রাণের উত্সবে উদযাপনের সুর আজ সপ্তমে। দেখে নেব সল্টলেক আর কলকাতার পুজোর কিছু ঝলক। সল্টলেক FD ব্লকের পুজোর থিম ইন্টারনেট। নেটের ফাঁদ পাতা ভুবনে তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে জীবন কীভাবে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে, পুজোমণ্ডপে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়ার কমিউনিকেশন ফান্ডাও এখানে হাজির। বাংলার পাট শিল্প। যা এক সময় ছিল গৌরবের, আজ তা মৃত প্রায়। সেই হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, মাতৃ বন্দনায় পাটকেই মাধ্যম করেছে সল্টলেকের লাবণি এস্টেট। পাটের উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে পুজোমণ্ডপ। দেবী প্রতিমা থেকে তার অঙ্গসজ্জা, পাটের কাজ দর্শকদের নজর কাড়বে। সল্টলেক AE পার্ট ওয়ান ব্লকের পুজোর থিম আমার দুর্গা। মণ্ডপজুড়ে নারী শক্তির জয়গান। সমাজের সব স্তরের নারী শক্তিকে মণ্ডপে হাজির করা হয়েছে। সাঁওতাল রমণী থেকে কর্পোরেট লেডি, কে নেই এই পুজোপ্রাঙ্গনে! হাতে আঁকা রঙবেরঙের স্কেচ। সঙ্গে নানা রকমের পেন্টিং। মণ্ডপজুড়ে ত্রিনয়নের বাহার। মণ্ডপসজ্জায় শালপাতার ব্যবহার দর্শকদের নজর কাড়বে। দেবীপ্রতিমার পাশাপাশি থাকছে অন্য এক নারী মূর্তি। অসুরের জায়গায় অশুভ শক্তি হিসেবে তাদের দেখানো হয়েছে যারা মহিলাদের খারাপ চোখে দেখে। মূল মণ্ডপ পদ্মফুল আকৃতির। তার ভিতরে অধিষ্ঠান করছেন দেবী দুর্গা।
বাড়ির পুজোর ভোগ নাকি বেশি ভাল। এমনটাই ভাবেন? তাহলে আপনার ভুল ভাঙাবে শহরের এক বারোয়ারি পুজো। সেখানেও সমান যত্নে তৈরি হচ্ছে ভোগ। ভবানীপুরের বিবেক বোধন সমিতিতে আবার মানুষকে ভোগ খাওয়ানোটাই আসল উত্সব।
দেবীপক্ষে বাঙালিদের পাশাপাশি নজর কাড়ছে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মাতৃবন্দনাও। ধর্ম বিশ্বাসে গোর্খারাও দেবী দুর্গার উপাসক। প্রতিবারের মতো এবারও ভানুভক্ত সমিতির উদ্যোগে শিলিগুড়ির প্রধাননগরে নিজেদের মতো করে দুর্গাপুজো করছেন গোর্খারা। তাঁদের রীতিনীতি বাঙালিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় নবরাত্রি উত্সব।
ধূপ, দীপ, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে কুমারী পুজো মল্লিক বাড়িতেও। সেলিব্রিটি ইমেজ ঝেড়ে ফেলে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে পুজোর কাজে হাত লাগালেন কোয়েল মল্লিক। বন্ধুর ডিজাইন করা শাড়িতে AS USUAL GORGEOUS কোয়েল। বললেন, সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় দেখা হয়না কারও সঙ্গে। পুজোর কটা দিন তাই একেবারে NO WORK. শুধু দেদার আড্ডা আর গল্প।
কুমারী পুজো হয়না। অষ্টমীতে পাঁঠা বলিও বহুদিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে শোভাবাজার রাজবাড়িতে। বদলে বলি দেওয়া হয় আখ, মাগুর মাছ আর চালকুমড়ো। অষ্টমীর দিন পুজোর পর ঠাকুরদালানের বাইরের একটি জায়গায় চালকুমড়ো বলি হয়। এরপর আরতি। শেষে পুষ্পাঞ্জলি। রীতি মেনে শোভাবাজার রাজবাড়িতে অন্নভোগ হয় না। দেওয়া হয় নানা রকমের মিষ্টি।
পুজোর সেরা জামাটা তোলা থাকে আজকের জন্যই। আজই সবচেয়ে বেস্ট লুকে বাইরে বেরোতে চান সকলে। কারণ আজ অষ্টমী। অষ্টমী মানে কুমারী পুজো। কেউ চলে যান হাতের কাছের রামকৃষ্ণ মিশনে, কেউ আবার কুমারী পুজো দেখতে চোখ রাখেন টিভি স্ক্রিনে। তারই ফাঁকে স্নান সেরে নেওয়া। নতুন জামা পড়ে সোজা প্যান্ডেলে দৌড়। পুষ্পাঞ্জলি। মায়ের কাছে মনের ইচ্ছে খুলে বলা। মঙ্গলারতি দেখতে দাঁড়িয়ে যান অনেকে।