)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'গগনযান' ভারতের খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক প্রকল্প। 'গগনযান' ভারতের প্রথম মহাকাশে মানুষ পাঠানোর অভিযান। এই প্রকল্প নিয়ে তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই দেশের বিজ্ঞানীকুলও যেমন উত্তেজিত হয়ে আছে, তেমনই দেশের সাধারণ মানুষও এ নিয়ে খুবই কৌতূহলী ও উদ্দীপ্ত হয়ে আছেন। তবে গগনযান প্রকল্প পূর্ণতা পেতে এখনও দেরি আছে। তার আগে থেমে নেই ভারতের মহাকাশবিজ্ঞানের অভিযান।
গগনযান মিশনে মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া চার নভোশ্চরের মধ্যে একজন এবার মহাকাশে যাচ্ছেন। যাচ্ছেন অবশ্য ইসরো নয়, নাসার মহাকাশানে চড়ে। তিনি যাবেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। গত সপ্তাহে লোকসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। না, হঠাৎ করে জানাননি। এ বিষয়ে লোকসভায় প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছিলেন, বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিওম স্পেস (Axiom Space) এবং ইসরোর (ISRO) সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যৌথ অভিযানের বিষয়ে একটি স্পেস ফ্লাইট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নাসা। সেই চুক্তির অধীনেই এক ভারতীয় নভোশ্চরকে মহাকাশে পাঠানো হবে।
'গগনযান' অভিযানের জন্য প্রাথমিক ভাবে বেছে নেওয়া চার নভোশ্চর বেঙ্গালুরুতে ইসরোর মহাকাশচারী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এখন। চলতি বছরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে জানানো হয়েছিল, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যৌথ অভিযান চালানোর লক্ষ্যে অচিরেই ভারতীয় মহাকাশচারীদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেবে নাসা।
তবে গগনযান মিশনের জন্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট গ্রুপ থেকে বেছে নেওয়া চারজন মহাকাশচারীদের মধ্যে নাসার সঙ্গে যৌথ অভিযানে পাকাপাকি ভাবে কে যাবেন, তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। তবে যিনিই যান, তিনিই হবেন মহাকাশে যাওয়া দ্বিতীয় ভারতীয় নভোশ্চর। এর আগে মহাকাশে গিয়েছেন ভারতের রাকেশ শর্মা। তিনিই একমাত্র ভারতীয়, যিনি মহাকাশে পা রাখতে পেরেছেন।
এর আগে চন্দ্রযান নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল ইসরো (ISRO)। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ইসরো নিয়ে মানুষের কৌতূহল তখন তুঙ্গে। সকলেই জানতে চেয়েছিল, এরপর আর কী কী করবে ইসরো? অনেক কিছুই ছিল তালিকায়। জানা গিয়েছিল, নাসার সঙ্গে যৌথ ভাবে সিন্থেটিক অ্যাপারচার র্যাডার মিশনে কাজ করছে ইসরো। সংক্ষেপে এই মিশনের নাম 'নিসার'-- নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার র্যাডার মিশন। এটি প্রথম 'ডাবল-ব্যান্ড র্যাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট'। পৃথিবীর বাইরে থেকে পৃথিবীকে দেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠাবে এটি। ইসরোর তালিকায় কৃত্রিম উপগ্রহও রয়েছে। স্যাটেলাইটের নাম ইনস্যাট-থ্রিডিস। এটি আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে কাজ করবে। ইসরোর তালিকায় রয়েছে রিস্যাট-১ বি এবং রিসোর্সস্যাট-৩ কৃত্রিম উপগ্রহও। ভারতের রিমোট সেন্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করবে এগুলি। চাঁদে ভারতীয় মহাকাশের অভিযানে ও গবেষণায় সাহায্য করবে, এমন দুটি প্রকল্পও ইসরোর হাতে আছে। ইসরোর আর একটি প্রকল্প ওশানস্যাট-৩। সমুদ্র গবেষণা এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করবে এটি। ইসরো কাজ করছে দেশের টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)