Bangladesh: রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন!
Bangladesh: ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা প্রকল্প চালু হয়েছে। কিন্তু বাড়তি যান চলাচলের কারণে সমস্যা তো মিটেছেই না, বরং প্রকল্পের কারণে গাড়ি বাড়ছে। গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকায় যানজট কমানো যায়নি। ট্রাফিক পুলিশ কার্যত নির্বিকার।
সেলিম রেজা,ঢাকা: ঢাকায় নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা ২১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশিও। আর নথিভুক্ত এমন যানবাহন? প্রায় ৮ লাখের বেশি! এখন শহরের রাস্তায় চলছে প্রায় ৩০ লাখের বেশি যানবাহন। অথচ ছোট-বড় মিলিয়ে রাস্তা হাজার তিনেক কিমি-র বেশি নয়। যে পথে চলাচল করতে পারে সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ যানবাহন। তবে প্রতিদিন ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে প্রবেশ করছে লাখের বেশি যানবাহন। খবর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (BRTA)সূত্রে।
আরও পড়ুন: Bangladesh: ইউনূস সরকারের নতুন পদক্ষেপ, পাকিস্তানিদের জন্য বিশেষ এই সুবিধা দিতে চলেছে বাংলাদেশ
ঢাকা শহরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা প্রকল্প চালু হয়েছে। কিন্তু বাড়তি যান চলাচলের কারণে সমস্যা তো মিটেছেই না, বরং প্রকল্পের কারণে গাড়ি বাড়ছে। গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকায় যানজট কমানো যায়নি। ট্রাফিক পুলিশ কার্যত নির্বিকার। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোসহ সব রাস্তায়ই বিনা বাধায় চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ নিষিদ্ধ যানবাহন। ফলে নিত্য যানজটে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
কীভাবে শহরকে যানজটমুক্ত করা যায়? পথ খুঁজতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ঢাকার যানজট সমস্যার চেষ্টা আগেও হয়েছে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ বিধিসম্মত ছিল। তাঁদের মতে, সারা বিশ্বে যেভাবে যানজটের সমস্যা মেটানো হয়, সেভাবে সমস্যা মেটানো সম্ভব ঢাকায়ও। তবে এক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপও প্রয়োজন। ৬০ বা ৭০ শতাংশ ঢাকাবাসীকে গণপরিবহণে আওতায় আনা যায়, তাহলে অনেকাংশেই যানজটের সমস্যা মিটবে।
এর আগে, ১৫ মে ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর অভিযানও শুরু করে পুলিশ। কিন্তু ফল হল উল্টো! শহরের প্রায় সব রাস্তাতেই অনুমোদনহীন রিক্সা দাপাদাপি আরও বেড়ে যায়। এখন তো প্রতিদিনই নানা মডেলের রিক্সা রাস্তায় নামছে! উত্পাদন বেড়েছে কয়েক গুন। পথচারীরা তো বটেই, সমস্যায় অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরাও।
ব্যটারিচালিত রিকশার যাত্রী ঢাকার বাড্ডা আদর্শ নগর এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী শিলা রহমান বলেন, 'নিষিদ্ধ যানের উৎপাদন আগে বন্ধ করতে হবে। এলসির মাধ্যমে ব্যটারিচালিত রিকশার পার্টস আমদানি বন্ধ না হলে বিপজ্জনক এসব যানবাহন আরও বাড়বে'। ঢাকার উত্তরা মোটর্সের সহকারী ম্যানেজার আল আমরান মতে, 'ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন নিয়ে মহিলা ও প্রতিবন্ধী লোকজন ঢাকার রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোসহ সব রাস্তায়ই বিনা বাধায় চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা যা পথের বিশৃঙ্খলা বাড়িয়েছে বহুগুণ। তেমনি যানজটের ভোগান্তি বেড়েছে অনেক বেশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টায় পথের জটলায় নাকাল হতে হচ্ছে রাজধানী ঢাকাবাসীকে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)