সুকান্ত ভট্টাচার্যের পঙক্তিকেই তা হলে স্বীকৃতি দিল নোবেল কমিটি!

বিশ্বের কাছে খিদে মুছে ফেলার অঙ্গীকার

Updated By: Oct 10, 2020, 01:45 PM IST
সুকান্ত ভট্টাচার্যের পঙক্তিকেই তা হলে স্বীকৃতি দিল নোবেল কমিটি!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। জানতেন বাংলার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। জেনেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। নোবেল কমিটি দেখাল, এই সত্য তারাও জানে এবং জানে এই সত্যকে সম্মান জানাতেও!

২০২০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হল 'ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম'
(ডব্লু.এফ.পি)। এটি রাষ্ট্রপুঞ্জেরই একটি প্রকল্প। গত সহস্রাব্দের ষাটের দশকে এটি কাজ শুরু করে। খিদে যাতে কোনও কায়েমি স্বার্থকামী শক্তির হাত শক্ত না করে সেজন্য এ বিশ্ব থেকে খিদেকে নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজে নেমেছিল বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প। দশকের পর দশক জুড়ে তাদের সেই লড়াইকেই কুরনিশ জানাল নোবেল কমিটি।

কিন্তু কেন শান্তি পুরস্কার?

আসলে পেট যে বড় জ্বালা! সারা বছর ধরেই বিশ্ব জুড়ে খিদেতে কষ্ট পান অসংখ্য মানুষ। দৈনন্দিনের এই অভাব-অনটন ছাড়াও রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-মহামারীর প্রভাব। তখনও খাবার পান না মানুষ। দেখতে গেলে অগণিত মানুষের এই খিদেকেই যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের 'জাস্টিফাই' করে এক দল স্বার্থবাদী, যুদ্ধপ্রিয় ধ্বংসকামী। তারা প্রবল যুক্তি তুলে যুদ্ধ চালাতে চায়। এখন যুদ্ধের এই 'কারণ'টিকেই যদি কোনও ভাবে নির্মূল করে দেওয়া যায়, তা হলেই তো যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে, আসবে শান্তি। ফলে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা যা করছে, তা প্রকারান্তের শান্তির জন্যই করছে! তাই এ বছরের শান্তি পুরস্কার তারাই পেল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম' দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের খাদ্যপ্রকল্প সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে। হাতেগোনা কয়েকটি দৃষ্টান্ত হাজির করা যাক। ২০১০ সালে হাইতিতে ভূমিকম্পের পরে সেখানকার মহিলাদের মধ্য়ে খাবার বণ্টন করে তারা। মহিলাদের হাতে খাবার তুলে দিয়ে তারা আসলে প্রতিটি পরিবারের খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ২০১৭ সালে জর্ডনের সিরিয়ান উদ্বাস্তুদের মধ্যেও খাদ্যবণ্টনে তাৎপর্যপূর্ণ কাজ করে তারা। ২০১৯ সালে ৮৮টি দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে রেশন জুগিয়েছে তারা। ২০২০-তেও ইয়েমেনে বিপন্ন মানুষের কাছে খাদ্য় পৌঁছে দেয় সংস্থাটি। সংস্থাটির আশা এবং লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিশ্ব থেকে খিদে দূর করবে তারা।
   
এই প্রার্থনা সত্য হোক তাদের। এই লক্ষ্য পূরণ হোক তাদের। এই উদ্দেশ্য সফল হোক তাদের। খিদের সঙ্গে লড়তে গিয়ে ইতিমধ্যেই যে সাহস তারা দেখিয়েছে, তাতে এ পুরস্কার তাদের প্রাপ্যই ছিল।

আরও পড়ুন: ভারতের উত্তর সীমান্তে ৬০,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে চিন, প্রতিবাদে সরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র