আট প্রজাতির করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে, দ্রুত বদলাচ্ছে জিনগত বৈশিষ্ট্য

জিনগত পরিবর্তনের থেকে আবহাওয়ার তারতম্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। 

Updated By: Apr 4, 2020, 11:46 AM IST
আট প্রজাতির করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে, দ্রুত বদলাচ্ছে জিনগত বৈশিষ্ট্য

নিজস্ব প্রতিবেদন— জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৯ জনের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। সারা বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা বিশ্বে আট প্রজাতির করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দ্রুত বদলাচ্ছে তার জিনগত বৈশিষ্ট্য। ৩৫টি দেশের বিজ্ঞানীরা  এই মারণ ভাইরাসের হাজারের বেশি জিনগত বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করেছেন। ইউরোপ বা চিনে যে করোনাভাইরাস প্রাণঘাতী হয়েছে তার সঙ্গে ভারতে হামলা চালানো ভাইরাসের তারতম্য রয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে করোনাভাইরাসের মারণ ক্ষমতা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

জিনগত পরিবর্তনের থেকে আবহাওয়ার তারতম্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। পদ্মভূষণ পুরস্কার জয়ী চিকিৎসক জি পি নাগেশ্বর রেড্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, চীন ও ভারতে ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করা হয়েছে। তবে ভারতে হামলা চালানো ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্যে তারতম্য রয়েছে। ভারতে যে করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন সেটির স্পাইক প্রোটিনে কিছু জিনগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, যে সব জায়গায় করোনা হামলা চালিয়েছে সব থেকে বেশি সেখানকার গড় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৪ থেকে ৯ গ্রাম। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়লে করোনা জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে।

আরে পড়ুন— আতঙ্কিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট, ফের করালেন করোনা টেস্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও ভাইরাসের ভিতরে ডিএনএ ও আরএনএর মতো বংশীয় নিউক্লিওটাইড থাকে। এটি প্রোটিনের আবরণে মোড়া অবস্থায় থাকে। কিছু প্রোটিন স্পাইক ভাইরাসের দেহ থেকে বেরিয়ে থাকে। করোনাভাইরাসের ভিতরে একটি ফিতার আকৃতির আরএনএ রয়েছে। ভাইরাসের গা থেকে বেরিয়ে রয়েছে এস-প্রোটিন নামে স্পাইক। এই আরএনএ ভাইরাস সব সময়ই সব সময় জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সার্স, মার্স, সোয়াইন ফ্লু যে কোনও ভাইরাসের বিস্তারেই আবহাওয়ার প্রভাব ছিল। করোনার ক্ষেত্রেও তাই। আবহাওয়ার তারতম্যে এই ভাইরাসের গতিবিধি ভিন্ন হয়। ভাইরাসের মারণ ক্ষমতাও নির্ভর করে আবহাওয়ার তারতম্যে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শ্বাসনালীতে প্রবেশের পরই করোনা কোষ দখল করে লাখ লাখ সংস্করণ তৈরি করছে। তাই উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। ইতালিতে যে প্রজাতির করোনা আক্রমণ চালিয়েছে সেটির ইআরএনএতে তিনটি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সেটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ভারতে হামলাকারী করোনা কিন্তু ততটা বিপদজনক নয়। এটুকুই যা আশার বাণী শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীদের একটি দল।