বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুলতে চলেছে সিঙ্গুর, চূড়ান্ত শুনানি মঙ্গলবার

Updated By: May 6, 2016, 07:51 PM IST
বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুলতে চলেছে সিঙ্গুর, চূড়ান্ত শুনানি মঙ্গলবার

ওয়েব ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে সিঙ্গুর মামলার শুনানি। আর তাতেই সর্বোচ্চ আদালতের তোপের মুখে টাটা এবং পূর্বতন বাম সরকার। জনস্বার্থের কথা বলে বহুফসলি জমি কেন নেওয়া হয়েছিল? কেনই বা শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট জমি না নিয়ে কৃষিজমি নেওয়া হয়েছিল? সরাসরি এমনই অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের একটাই প্রশ্ন- শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল? নাকি শুধুমাত্র টাটাদের জন্যই জমি নিয়েছিল পূর্বতন বাম সরকার?

সিঙ্গুর। বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এই একটা নাম। সেখানে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি কি সঠিক ছিল? এই বিতর্ক নিয়ে মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে। আর সেই মামলার শুনানিতেই সর্বোচ্চ আদালতের তোপের মুখে পড়ল বাম সরকার এবং টাটারা। বিচারপতি ভি গোপাল গৌড়া ও বিচারপতি অরুণ মিশ্রর বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে- জনস্বার্থের কথা বলে কোনও বেসরকারি সংস্থার জন্য সরকার জমি নিতে পারে না। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাটিও নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না, সিঙ্গুরের জমিই তাদের চাই। বহুফসলি জমি কেন নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত।

এখানেই শেষ নয়। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, সিঙ্গুরে জমি আইনি পথে নেয়নি টাটারা। বাম আমলে শিল্প উন্নয়ন নিগম টাটার জন্য টাকা জোগাড় করে জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। আর এতেই সরকারি রাজস্ব থেকে ১৩৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। এতেই কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েন টাটার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। নিজের সওয়ালে তিনি বলেন, টাটা উভয়সঙ্কটে পড়েছে।  পূর্বতন সরকার জমি দিয়েছিল, টাটারা বিনিয়োগ করে। বর্তমান সরকার জমি ফেরত নিতে  চাইছে।

একই সঙ্গে টাটার আইনজীবীর বক্তব্য ছিল , সিঙ্গুরে টাটারা জমি অধিগ্রহণ করেনি। কৃষকদের ক্ষতিপূরণও টাটারা দেয়নি। ক্ষতিপূরণ দিয়েছে শিল্প উন্নয়ন নিগম। সওয়াল জবাবে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কোর্টরুম। সিঙ্গুরে বিনিয়োগ করায় টাটাদের অপরাধ কোথায়, তা জানতে চান অভিষেক মনু সিংভি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শেষমেষ চলে যেতে হলে, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিয়েই তারা যাবেন। আর এখানেই সর্বোচ্চ আদালতের প্রশ্ন, জমি অধিগ্রহণ যদি আইন মেনে না হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ চাইছেন টাটারা?

বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফ থেকে নতুন তথ্য পেশ করা হয়। সিঙ্গুরে টাটারা কেন ছশো একরের কথা বলে পরে  হাজার একর  জমি  চায়, তা স্পষ্ট নয়। টাটাদের তরফ থেকে লিখিত আবেদন ছিল, নাকি পূর্বতন সরকার নিজেই উপযাজক হয়ে বাড়তি জমি দিতে চেয়েছিল, আদালতের সামনে সেই প্রশ্ন তুলে ধরে রাজ্য সরকার। এরপরই টাটা এবং সরকারকে এব্যাপারে বস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলে সর্বোচ্চ আদালত।সর্বোচ্চ আদালতের প্রশ্ন এখন একটাই। শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল পূর্বতন সরকার? নাকি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল শুধুমাত্র টাটাদের দেওয়ার জন্যই?
ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর তাই আরও একবার বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুলতে চলেছে সিঙ্গুর। চূড়ান্ত শুনানি আগামী মঙ্গলবার।