বিছের `কামড়` খেয়েও পাহাড়ে জয়ের মশাল

Last Updated: Thursday, October 11, 2012 - 17:14

ইস্টবেঙ্গল (১) সিকিম ইউনাইটেড (০)

পাহাড়ের উচ্চতা, বিপক্ষ দলের পাহাড়ি বিছের মত লড়াকু মনোভাব, আর ছোট মাঠ। বৃহস্পতিবার এতগুলো আশঙ্কা নিয়ে আই লিগে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমেছিল ফেড কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সব আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে রেখে বাইচুং ভুটিয়ার ক্লাবের কাছ থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে এলেন চিডি-মেহতাবরা। খেলার ৮৫ মিনিটে দুরন্ত ফ্রিকিক থেকে লালরিনডিকার গোলে ইস্টবেঙ্গলের এই জয় দিয়েই এবারের আই লিগে জয়ের রাস্তায় ঢুকল মরগ্যানের দল। বলজিত-চিডিকে সামনে রেখে দল নামিয়েছিলেন কোচ মরগ্যান। শুরু থেকেই পালজোর স্টেডিয়ামে বল পজিশন ছিল ইস্টবেঙ্গলের দখলেই। শুধুমাত্র মিডফিল্ডেই দখল নেওয়া নয়, প্রথমার্ধে অন্তত ছয়বার গোলে সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।কিন্তু কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ইসফাকরা।অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের শেষমূহুর্তে লালরিনডিকার গোলে জয় নিশ্চিত করে লাল হলুদ শিবির। ফেডারেশন কাপে চার্চিল ব্রাদার্স ম্যাচে ড্র করার পর আবার ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মুখে হাসি ফোঁটালেন ডিকা। আইলিগের প্রথম দুটি ম্যাচে মরগ্যানের টার্গেট ছিল,চার পয়েন্ট। লক্ষ্যপূরণ করায় পুজোর আগে দেশের সেরা টুর্নামেন্টে নিজেদের জায়গা নিয়ে আপাতত স্বস্তিতে ইস্টবেঙ্গল কোচ।
 গোলের সুযোগ নষ্টের অভিযোগ উঠলে কোচ মরগ্যান প্রায়ই একটা কথা বলেন। গোল মিস করা মানে তাঁর স্ট্রাইকাররা গোলের কাছে পৌঁছেছেন। ইউনাইটেড সিকিমের বিরুদ্ধে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ডিকার গোলে জয় পেলেও, গোল নষ্টের রোগ থেকে মুক্তি পেলেন না চিডিরা। ম্যাচের পর মেহতাব হোসেন জানান,দল বেশি গোলে জিততে না পারলেও,দুরন্ত ফুটবল খেলেছেন তাঁরা। মাঠের একটা দিক ঢালু হওয়ায়,বল কন্ট্রোলে সামান্য সমস্যা হচ্ছিল বলে দাবি মেহতাবের।তবে ম্যাচে আশি শতাংশ বল দখল ছিল মেহতাবদেরই। কোচের মতই দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়াকে ইতিবাচক দিক বলছেন ইস্টবেঙ্গলের মিডিও। প্রথম ম্যাচে গ্যাংটক থেকে ইউনাইটেড সিকিমের কাছে হেরে ফিরতে হয়েছিল সালগাঁওকরকে। বৃহস্পতিবার দর্শক পরিপূর্ন পালজোর স্টেডিয়াম থেকে পুরো তিন পয়েন্ট ঘরে তুলতে পেরে খুশি ইস্টবেঙ্গল।

দু`ম্যাচ পর ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট দাঁড়াল ৪ পয়েন্ট।
তবে হারলেও বেশ লড়াই করল সিকিম ইউনাইটেড। আই লিগে তাদের প্রথম ম্যাচেই সালগাওকরকে রুখে দেওয়া ফিলিপ ডি রাইডারের দল এদিন ইস্টবেঙ্গলকেও মরণ কামড় দিল, তবে অভিজ্ঞতা আর ডেড বল সিচ্যুয়েশনে বাজিমাত করেই পাহাড়ে লাল হলুদ সূর্যোদয় ঘটল।
ইস্টবেঙ্গল: অভিজিত, নওবা, অর্ণব, ওপারা, সৌমিক, সঞ্জু, পেন, মেহতাব, ইসফাক, বলজিত্‍, চিডি।



First Published: Thursday, October 11, 2012 - 18:52
comments powered by Disqus