বাম-বন্‌ধে ব্যাপক সাড়া তেহট্টে, কংগ্রেসের কালা দিবস রাজ্য জুড়ে

পুলিসের গুলি চালানোর প্রতিবাদে বামেদের ডাকা বারো ঘণ্টার বনধে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলল তেহট্টে। সকাল থেকেই এলাকার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাটেও লোকজন বিশেষ নেই। তেহট্টের বনধের পাশাপাশি, নদিয়া জেলাজুডে আজ প্রতিবাদ আন্দোলনও করবে বামেরা। অন্যদিকে, তেহট্টের ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাজ্যজুড়ে কালাদিবস পালনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপা দাশমুন্সিও আজ তেহট্টে যাচ্ছেন। যদিও, এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীকে তেহট্টের হাউলিয়ায় যেতে দেওয়া হয়নি।

গুলির পরে রাতভর অত্যাচারের অভিযোগ পুলিসের বিরুদ্ধে

নতুন করে অশান্তি এড়াতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। আর এই পুলিসেই এখন আতঙ্ক এলাকাবাসীর। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বলছেন, বুধবার রাতভর তল্লাসির নামে হাউলিয়া মোড় সংলগ্ন দেড় কিলোমিটার এলাকায় পুলিস যা করেছে তাকে তাণ্ডব বললেও কম বলা হয় । বাড়িঘরে এখনও জ্বলজ্বল করছে অত্যাচারের দগদগে চিহ্ন। অভিযোগ, নতুন পাড়া, পিডব্লিউডি মোড়ের বাড়ি বাড়ি ঢুকে পুলিস অত্যাচার চালিয়েছে। মারধর, গালিগালাজ, ভাঙচুর, চলেছে সবই। অশ্রাব্য গালিগালাজের সঙ্গেই চলে শারীরিক নিগ্রহ। পুলিসের ভূমিকায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে তেহট্টের মানুষের মধ্যে।

দুবরাজপুরে পুলিসি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি

দুবরাজপুরের লোবা গ্রামে পুলিসি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলই পুলিসকে প্ররোচিত করেছিলেন গুলি চালানো জন্য। দুবরাজপুরে পুলিস-জনতা সংঘর্ষে গ্রামবাসীদের কোনও দোষ দেখতে পাননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর চোখে পুলিসও ছিল নিরপরাধ। ঘটনার পিছনে মুখ্যমন্ত্রী দেখেছিলেন ষড়যন্ত্র। আর তাঁর শিল্পমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, পুলিসের ওপর হামলা চালিয়েছে সিপিআইএম ও কংগ্রেস। পরে অবশ্য বয়ান বদল করে উগ্র বামপন্থীদের দোষারোপ করেন তিনি। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে শিল্পমন্ত্রীর বয়ান মিলছে না।