close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

আপনি কি প্রায়ই কথা বলতে বলতে ভুলে যান ঠিক কী বলছিলেন? সর্বনাশ!

 বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সাইলেন্ট স্ট্রোক (Silent Stroke) বা নীরব স্ট্রোকের একটি অন্যতম লক্ষণ।

Sudip Dey | Updated: Mar 11, 2019, 12:52 PM IST
আপনি কি প্রায়ই কথা বলতে বলতে ভুলে যান ঠিক কী বলছিলেন? সর্বনাশ!
--প্রতীকী চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন: আপনি কি প্রায়ই অন্যমনস্ক হয়ে যান? কথা বলতে বলতেই ভুলে যান ঠিক কী বলছিলেন? তাহলে এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি! কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সাইলেন্ট স্ট্রোক (Silent Stroke) বা নীরব স্ট্রোকের একটি অন্যতম লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আলঝেইমার্স, ডিমেনশিয়া এবং স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ এই সাইলেন্ট স্ট্রোক। চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই সাইলেন্ট স্ট্রোককে বলা হয় ‘সেরিব্রাল স্মল ভেসেল ডিজিজ’ (Cerebral Small Vessel Disease)।

স্ট্রোকের সঙ্গে সাইলেন্ট স্ট্রোকের ফারাক কোথায়?

সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্যে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে, এমনকি মস্তিষ্কের কোষেও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কোনও কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সংকীর্ণ হয়ে বা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিস্তেজ হয়ে যায়। একেই চিকিত্সকেরা স্ট্রোক বলেন। আর সাইলেন্ট স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কের রক্ত ​​প্রবাহের মাত্রা ও গতিতে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে মস্তিষ্কের সাদা বস্তু বা অংশ (হোয়াইট ম্যাটার: যা শরীরের নানা অংশের বা অঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য দায়ী) মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি-সহ অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার আগে এই তথ্যগুলি জেনে রাখা জরুরি!

নেদারল্যান্ডসের প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভেয়ার’ থেকে প্রকাশিত মাসিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘জার্নাল নিউরোবায়োলজি অব এজিং’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইলেন্ট স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কের সাদা বস্তু বা অংশ (হোয়াইট ম্যাটার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে এই সমস্যায় আক্রান্তরা মাঝে মধ্যেই অমনোযোগী হয়ে পড়েন। দৈনন্দিনের বেশির ভাগ কাজে বিভ্রান্ত বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোকের প্রভাব স্ট্রোকের মতো দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী নয়। যেমন, স্ট্রোকের ফলে আংশিক বা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতের সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাগুলি দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী শারীরিক সমস্যা। কিন্তু সাইলেন্ট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাময়িক অন্যমনস্কতা, বিভ্রান্ত বা দ্বিধা কাজ করে। চিকিত্সকদের মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোক আসলে বয়স বৃদ্ধির কারণে হওয়া সাধারণ একটি স্নায়বিক রোগ।

কী ভাবে সাইলেন্ট স্ট্রোকের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?

১) নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে (স্বাভাবিক) রাখুন।

২) ধূমপানে অভ্যাস সাইলেন্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ধূমপানে অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৩) আপনার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। এ বিষয়ে বিষদে জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে: (আপনার উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন ঠিক আছে তো? জেনে নিন...)

৪) প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে খাওয়া নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

৫) রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৬) পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত ফল, শাক-সবজি।

৭) অসময়ে খাওয়া বা ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করুন।