দিল্লিতে রূপাকে ডাকলেন অমিত শা

রূপা গাঙ্গুলিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতারা যত অভিযোগই করুন না কেন, কেন্দ্রীয় নেতারা কিন্তু তাঁকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রূপার সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শা। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, বড়সড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে  রূপাকে।  

Updated By: Aug 13, 2015, 09:54 AM IST
দিল্লিতে রূপাকে ডাকলেন অমিত শা

ওয়েব ডেস্ক: রূপা গাঙ্গুলিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতারা যত অভিযোগই করুন না কেন, কেন্দ্রীয় নেতারা কিন্তু তাঁকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রূপার সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শা। রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, বড়সড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে  রূপাকে।  

বুধবার তাজবেঙ্গল থেকে নেত্রী যখন বেরোলেন, তখন চোখেমুখে হাসি। অমিত শার সঙ্গে কথা হল? জিজ্ঞেস করতেই কৌশলী উত্তর।

নেত্রী এড়িয়ে গেলেন। কিন্তু বিজেপি সূত্রই জানাচ্ছে, একদিনের ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও রূপার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন অমিত শা। রাজ্য বিজেপিতে কোণঠাসা নেত্রীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। দলীয় সূত্রে খবর, রূপাকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।  

মোদ্দা কথা হল এটাই, রাজ্য বিজেপির একাংশ রূপার পায়ে বেড়ি পড়াতে চাইলেও, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হয়েছেন, বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যেই পিছনে ফেলে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির পোড় খাওয়া নেতাদের। কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে হুটহাট চলে যাওয়া, বিতর্কিত লাইফ স্টাইল, রূপার বিরুদ্ধে রাজ্য নেতাদের অভিযোগ অনেক। কিন্তু রক্ষণশীল দলের কাণ্ডারী হয়েও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রূপাকে ফেলতে পারছেন না। উল্টে অমিত শা থেকে কৈলাস বিজয় বর্গীয়, প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলছেন। প্রশ্ন হল, রূপার প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বাড়তি গুরুত্ব কেন? উঠে আসছে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর।

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিশাল জনসংখ্যার এই রাজ্যে বিজেপি রাজনীতি করছে অনেকদিন। কিন্তু ভোটবাক্সে তার ফায়দা মেলে না। মোদী হাওয়ায় ভর করে দুহাজার চোদ্দর লোকসভা ভোটে রাজ্যে ফল কিছুটা ভাল হয় ঠিকই। কিন্তু তার প্রভাব রাহুল সিনহারা কাজে লাগাতে পারলেন কই? উদাহরণ বীরভূমের পাড়ুই।

রাহুল সিনহার আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। যুব মোর্চার দায়িত্ব সামলেছেন। রাজ্য সভাপতি পদে দীর্ঘ সময় রয়েছেন। কিন্তু সংগঠন বিস্তারে তার ছাপ নেই। অন্যদিকে, রাজনীতিতে আসার অল্প দিনের মধ্যেই নজর কাড়েন রূপা।

অভিনেত্রীর গ্ল্যামার ছেড়ে একেবারে মাঠে ময়দানে। প্রতিবাদে কখনও রাস্তায়। আক্রান্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো। ধারাবাহিক ভাবে তাঁদের পাশে থাকা। দৌপদ্রী চরিত্রের লড়াই যেন আবার ফিরে আসে রূপার বডি ল্যাঙ্গোয়েজে। মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁকেই মুখ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন বিজেপির নীচুতলার কর্মী সমর্থকরা।

তাই দুধকুমারের মতো পুরনো কট্টর বিজেপি নেতাকে ছেঁটে ফেলতে পারলেও, রূপার ক্ষেত্রে রাহুল সিনহাদের তা সম্ভব হয় না।