ফের সিন্ডিকেটের দখল নিয়ে উত্তপ্ত কলকাতা, আহত ৯, কার্যত দর্শকের ভূমিকায় পুলিস

নিউটাউনের পর খোদ কলকাতা। সিন্ডিকেটের দখল নিয়ে বেনিয়াপুকুর ও তিলজলার রাস্তায় বোমা, বন্দুক নিয়ে লড়াই করল দুদল তৃণমূল কর্মী, সমর্থক। রাতভর এলাকায় ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গিয়ে বোমার আঘাতে জখম দুই পুলিস কর্মী। দুপক্ষের অন্তত ৯ জন তৃণমূল কর্মীও আহত হয়েছেন।

Updated By: Jun 9, 2014, 11:46 PM IST

নিউটাউনের পর খোদ কলকাতা। সিন্ডিকেটের দখল নিয়ে বেনিয়াপুকুর ও তিলজলার রাস্তায় বোমা, বন্দুক নিয়ে লড়াই করল দুদল তৃণমূল কর্মী, সমর্থক। রাতভর এলাকায় ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গিয়ে বোমার আঘাতে জখম দুই পুলিস কর্মী। দুপক্ষের অন্তত ৯ জন তৃণমূল কর্মীও আহত হয়েছেন।

ইঁট বালি চুন সুড়কির যোগান থেকে বেআইনী নির্মানের একচেটিয়া ব্যবসার দখলদারি নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজ্যে পালাবদলের পর, প্রোমোটিং ব্যবসার একচেটিয়া দখল নিয়েছে শাসকদলের নেতা,কর্মীরাই। কিন্তু ব্যবসার লাভের বখরা নিয়ে বিরোধ লেগেই আছে শাসকদলেরই হাজারো গোষ্ঠীর মধ্যে। সেই বিরোধই সংঘর্ষের চেহারা নিল বেনিয়াপুকুর ও তিলজলায়। রবিবার রাতভর শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর বকলমে চলা দুই সিন্ডিকেটের এলাকা দখল নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় বোমা,গুলি চালিয়ে চলল পেশিশক্তি প্রদর্শনের খেলা। গুলি, বোমা ছাড়াও বাঁশ, লাঠি, ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো দুষ্কৃতীদের রোখা দুরে থাক অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করল পুলিস।

বেনিয়াপুকুরে ঘটনার সূত্রপাত থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে গোরাচাঁদ রোডে। মহঃ মনজুর এবং কৌসর জামিন এই দুই নেতার গোষ্ঠীর মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ চলে গোরাচাঁদ রোড এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি মহঃ মনজুর তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখার্জির ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে ষাট নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কৌসর জামিন তৃণমূল নেতা সচ্চিদানন্দ ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ বলে দাবি বাসিন্দাদের। দুপক্ষেরই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়। সংঘর্ষে দুপক্ষের আট থেকে নয়জন আহত হয়েছেন। মহঃ মনজুরের ছেলে মহঃ জায়েবকে আটক করেছে পুলিস। জায়েব সাত নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুবার সভাপতি। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা,কর্মীরা। এলাকা দখল ঘিরে তৃণমূলের সিন্ডিকেট সংঘর্ষে রাতভর উত্তপ্ত ছিল তিলজলার হনুমান মন্দির এলাকা। চলে ব্যাপক বোমাবাজি। বোমার আঘাতে দুই পুলিস কর্মী জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌছোয় বিশাল পুলিস বাহিনী।

ঘটনাস্থল থেকে ষোলটি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিস। হামলার অভিযোগে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পর থেকেই থমথমে গোটা এলাকা।