ঘুম ছুটেছে নির্মলের! মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে দিনে ১৬ ঘণ্টা মেডিকেলে চরকি পাক কাটছেন

"সব নজরে রাখছি। দেখছি সব ঠিকঠাক আছে কিনা। কোনও অভিযোগ যেন না ওঠে।"

Reported By: তন্ময় প্রামাণিক | Edited By: সুদেষ্ণা পাল | Updated By: Jul 31, 2020, 09:49 PM IST
ঘুম ছুটেছে নির্মলের! মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে দিনে ১৬ ঘণ্টা মেডিকেলে চরকি পাক কাটছেন
ফাইল ফোটো

নিজস্ব প্রতিবেদন : লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণ! মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে দিনের মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই মেডিকেল কলেজে তদারকি, নজরদারিতে ব্যস্ত নির্মল মাজি। দালালচক্র রুখতে আর পরিষেবা ঠিক রাখতে মেডিকেলে চড়কি পাক কাটছেন নির্মল মাজি। দালালদের হদিশ পেতে হাসপাতাল চত্বরে ছয়লাপ পুলিসে। সাদা পোশাকের পুলিস, সাধারণ পুলিস ঘুরছে সর্বত্র। আর তার মাঝেই  হাসপাতালে এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে বার বার পরিদর্শন করছেন, ঘুরপাক খাচ্ছেন নির্মল!

করোনা চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে কলকাতা মেডিকেল কলেজকে। হাসপাতালেই তাই দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটাচ্ছেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজি। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেই।  ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন বিল্ডিং। কথা বলছেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। রোগীর পরিবারের সঙ্গে। জানার চেষ্টা করছেন কী প্রয়োজন, কী কী অসুবিধা রয়েছে। কেন এতক্ষণ সময় দিচ্ছেন? কেন এইভাবে চড়কি পাক কাটছেন?

এই প্রশ্নে নির্মলের স্পষ্ট উত্তর, "মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিন খোঁজ নেন কলকাতা মেডিকেল কলেজে কেমনভাবে চিকিৎসা হচ্ছে রোগীদের? কী প্রয়োজন তা খোঁজ নেন। প্রতিদিন স্বাস্থ্য ভবন, সেক্রেটারি খোঁজ নেন মেডিকেলের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে। মানুষকে আরও পরিষেবা দিতে কোন কোন জিনিসের প্রয়োজন, সবকিছুরই তিনি প্রতিদিন প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। আমিও তাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে দিনে তিন থেকে চারবার চড়কি পাক কাটছি। সব নজরে রাখছি। দেখছি সব ঠিকঠাক আছে কিনা। কোনও অভিযোগ যেন না ওঠে। মানুষের যেন কোনও অসুবিধে না হয়। কী অসুবিধা আছে সেগুলো জানার চেষ্টা করছি।"

আরও বলেন, "একটা চক্র কাজ করছে। রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে পয়সা নিচ্ছে এমন অভিযোগ পাচ্ছি। কোনও রোগীর আত্মীয়কে যেন কোথাও ১০ পয়সা কাউকে না দিতে হয়। হাসপাতালের নিজস্ব কর্মীরা মূল ভবনগুলোতে কাজ করবেন, এমন সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। চুক্তিভিত্তিক অল্পসময়ের আংশিক কর্মীরাই বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কড়া হাতে নির্মূল করা হচ্ছে।"

মেডিকেল কলেজ সূত্রের খবর, বুধবার পুলিস কর্তাদের নিয়ে  রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান এবং মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছিলেন। সেদিনই শুরু হয়েছিল কারা কারা অনৈতিকভাবে রোগীর পরিবার থেকে টাকা-পয়সা নিচ্ছেন ,অনৈতিক কাজে জড়িয়ে আছেন, সেইসব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলাকালীনই বৃহস্পতিবার দুপুরে চুরির ঘটনা ঘটে সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের সেভেন্থ ফ্লোরে। তারপরই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কর্তৃপক্ষকে দিয়ে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করান নির্মল।

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণে এই রাজ্যে করোনা  চিকিৎসার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে সরকারের চিহ্নিত কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মান সঠিক রাখার দায়িত্ব বর্তেছে নির্মল মাজির উপর। আর তাতেই ঘুম ছুটেছে নির্মলের। ছুটে বেড়াচ্ছেন হাসপাতালে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত।

আরও পড়ুন, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা মেডিকেলে করোনা রোগীর চুরি যাওয়া হার-আংটি উদ্ধার

.