বৈশাখীর মান ভাঙাতে আর রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব! দিল্লি থেকে ফিরেই তাঁদের দিলেন স্পষ্ট বার্তা

তাঁদের দলে থাকা বা না থাকা নিয়ে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একেবারেই ভাবিত নন, তা বুধবার কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা।

Updated By: Sep 4, 2019, 01:09 PM IST
বৈশাখীর মান ভাঙাতে আর রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব! দিল্লি থেকে ফিরেই তাঁদের দিলেন স্পষ্ট বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন:   শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মান ভাঙাতে হাল ছেড়ে দিল বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দলে থাকা বা না থাকা নিয়ে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একেবারেই ভাবিত নন, তা বুধবার কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা।

 

এদিন বিমানবন্দরে নেমে বিজেপিতে দেবশ্রীর যোগদানে শোভন বৈশাখীর আপত্তি ও তাতে তাঁদের দলে থাকা, না-থাকা প্রসঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, “দলে থাকবেন কিনা, সেটা একান্তই ওঁদের ভাববার বিষয়। এটা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করার কিচ্ছু নেই। দলে কার গুরুত্ব বেশি এটা আমাদের এখানে কোনও ব্যক্তি ঠিক করে না, দলই ঠিক করে।”

অন্যদিকে, প্রায় একই প্রশ্ন মুকুল রায়কে করা হলে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে ওঁদের এখনও কথা হয়নি। তবে এইটুকু বলে রাখি দলের নীতি ও আদর্শই বড় কথা। এই নীতি ও আদর্শ মেনে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপিতে যোগ দিতে চান, দল তাঁকে গ্রহণ করবে।”

অর্থাত্ শোভন-বৈশাখী ‘অনৈতিক’ দাবি বা মর্জিকে যে বিজেপি শিবির এবার বিশেষ আমল দিতে নারাজ, তা দলীয় নেতৃত্বের কথাতে স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিল্লি থেকে ফিরে বিমানবন্দরে কৈলাস, মুকুল

এককথায় বিজেপি এখন শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে আতান্তরে। শোভন প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈশাখী। দলে তাঁর যথেষ্ট ভূমিকা না থাকা নিয়েও সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরপর আবার দেবশ্রীর বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি অনুঘটকের কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতেই প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা চায়ের আড্ডায় বসে বৈশাখী-শোভনের মানভঞ্জন করেছিলেন মুকুল। দিল্লিতে দাঁড়িয়ে মুকুল জোর গলায় বলেছিলেন, “সমস্যা মিটে গিয়েছে। শোভন বৈশাখী বিজেপিতে ছিলেন, আছেন।” একই সুর শোনা গিয়েছিল বাকি দুজনের গলাতেও। কিন্তু কলকাতায় ফিরতেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে যান শোভন। তিনি বলেন, দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে দল করা মোটেই সম্ভব নয়। বিজেপি নেতৃত্বকে সেটা জানিয়ে দিয়েছি।  শোভন ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন, শর্ত না মানলে তাঁর পক্ষে বিজেপি করা সম্ভব নয়।    স্বাভাবিকভাবেই শোভনের পাশে দাঁড়িয়ে সেসময় তাঁর কথায় সম্মতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বৈশাখীও।

কিন্তু এভাবে সময়ে সময়ে শোভন-বৈশাখীর ‘মুড’ পরিবর্তনকে ভালো চোখে দেখছেন না গেরুয়া শিবির। ব্যক্তি নয়, দলই যে বড় কথা-তা আবারও এদিন স্পষ্ট করে দেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।