close

News WrapGet Handpicked Stories from our editors directly to your mailbox

দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সংগঠন মজবুতের চেষ্টা, পিকে-র পরামর্শেই কি তৃণমূলের মানসিকতায় 'পরিবর্তন'?

লোকসভা ভোটে যে 'বিরোধী শূন্য' পশ্চিমবঙ্গের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব, বদল ঘটেছে সেই মানসিকতায়।

Kamalika Sengupta | Updated: Jul 12, 2019, 01:28 PM IST
দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সংগঠন মজবুতের চেষ্টা, পিকে-র পরামর্শেই কি তৃণমূলের মানসিকতায় 'পরিবর্তন'?

নিজস্ব প্রতিবেদন : লোকসভা ভোটে বিজেপির কাছে পর্যুদস্ত তৃণমূল। 'বিয়াল্লিশে ৪২, ২০১৯ বিজেপি ফিনিশ' স্লোগান বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে শাসক শিবিরের দিকেই। লোকসভা ভোটের ফল বেরতেই দেখা যায় বিজেপি ১৮, তৃণমূল ২২। ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। দেড় বছর বাদেই বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন লোকসভা ভোটের ফায়দা বিধানসভা নির্বাচনে তুলতে মরিয়া পদ্মশিবির, অন্যদিকে ঘাসফুল শিবির তখন ঘর গুছাতে ব্যস্ত।

লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই শুরু হয়েছে দলবদলের হিড়িক। নেতা থেকে নিচুতলার স্তরের কর্মীরা, দলে দলে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি সংগঠন ধরে রাখতে কার্যত 'দিশেহারা' অবস্থা তৃণমূল নেতৃত্বের। হাতে বেশি সময় নেই। তাই এখন থেকে রাশ টেনে না ধরলে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপদ যে আসন্ন, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আর তাই 'সাবধানী' তৃণমূল। লক্ষ্য এবার সংগঠনকে মজবুত করা।

সংগঠনকে মজবুত করতে ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইতিমধ্যেই বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। কী কী?

- মানুষের কাছে বারবার যাওয়া। ভুল স্বীকার করা।

-  আদিবাসী বিষয়ে বিরোধীদের নিয়ে একসঙ্গে বৈঠকে বসা।

- বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করা।

- দল ও প্রশাসনকে আলাদা রাখা।

- প্রশাসনিক নির্ভরতা নিয়ে দল নয়।

ভোটের ফল বেরনোর পর দেড় মাস কেটে গিয়েছে। এই দেড় মাসে দশের বেশি সাংগঠনিক বৈঠক হয়ে গিয়েছে। দলের 'দুর্দিনে' গুরুত্ব বেড়েছে তৃণমূল ভবনের। এই দেড় মাসে তৃণমূলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মানসিকতাতে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। লোকসভা ভোটে যে 'বিরোধী শূন্য' পশ্চিমবঙ্গের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব, বদল ঘটেছে সেই মানসিকতায়। চোখে পড়ছে বিরোধী শূন্য মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছে বিজেপি। রাজ্য রাজনীতির পরিসংখ্যান বলছে, এ জিনিস নতুন নয়। বামেদের হঠিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সিপিআইএম এবং পাশাপাশি কংগ্রেসের ঘর ভেঙে খুঁটি পোক্ত করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলকে। কিন্তু সেই পথ থেকে সরে এবার তৃণমূলের লক্ষ্য দখলের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পদ্মশিবির তৈরিতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। লক্ষ্য সফল করতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের তাস খেলছে বিজেপি। তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিজেপির সেই 'সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'র ফাঁদে পা না দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, সবকিছুতে প্রতিক্রিয়া না দেওয়া। শুধু আবেগে ভর করে রাজনীতি বা জনসংযোগ নয়, কৌশল নির্ধারণে প্ল্যানিং বা পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়ার উপর এখন গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন, পিকে-র উপস্থিতিতে তৃণমূল ভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সংগঠন মজবুত করতে ও হারানো জনসংযোগ ফিরে পেতে এই সব কিছুকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন... আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি মেকিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর উপস্থিতিতেই গতকাল তৃণমূল ভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর বিধায়কদের ৬ মন্ত্রে 'দীক্ষিত'ও করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাই পিকে-র পরামর্শেই কি এই বদলের পথে হাঁটছে তৃণমূল? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।