হাতি, গরুর পর এবার শেয়াল! বোমা ভর্তি মাংস খাইয়ে নিরীহ প্রাণীকে মারল মানুষ

বন দফতরের একজন অফিসার জানিয়েছেন, স্থানীয় কিছু মানুষ বিস্ফোরক ভর্তি মাংস খাইয়ে শেয়ালটিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। 

Updated By: Jun 10, 2020, 11:21 AM IST
হাতি, গরুর পর এবার শেয়াল! বোমা ভর্তি মাংস খাইয়ে নিরীহ প্রাণীকে মারল মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদন- মানুষ কি বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা হারিয়ে ফেলছে! নাকি দিনের পর দিন হৃদয়হীন হচ্ছে। কীসের জন্য নিরীহ বন্যপ্রাণীদের এমন নৃশংসভাবে মারছে মানুষ। কেরলে গর্ভবতী হাতিকে বিস্ফোরক ভর্তি আনারস খাইয়ে মারা হয়েছিল। সেই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক নৃশংসতার খবর এসেছিল। একটি গরুকেও একইভাবে বিস্ফোরক ভর্তি খাবার খাইয়েছিল কিছু অ-মানুষ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সেই নিরীহ গরুটির চোয়াল উড়ে গিয়েছিল। আর এবার মানুষের নৃশংসতার শিকার হল একটি শেয়াল। তামিলনাড়ুর তিরুচির জিয়াপুরমের ঘটনা। বন দফতরের কর্মীরা একটি শেয়ালের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেন। সেই শেয়ালটির মুখ বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। জঙ্গলের কাছাকাছি একটি অঞ্চল থেকে উদ্ধার হয়েছে মৃতদেহ। বন দফতরের কর্মীরা বলছেন, বিস্ফোরণের পর যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে শেয়ালটি। এমন ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি।

বন দফতরের একজন অফিসার জানিয়েছেন, স্থানীয় কিছু মানুষ বিস্ফোরক ভর্তি মাংস খাইয়ে শেয়ালটিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। শেয়ালটির চোয়াল ও গলার বেশ কিছুটা অংশ বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে। পুলিস ও বন দফতর যৌথ অভিযান চালিয়ে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২জনকে গ্রেফতার করেছে। ১২ জনের বিরুদ্ধে বন্য জন্তু শিকারের মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করে। শিয়ালের মাংস খাওয়ার জন্যই এমন জঘন্য কাজ তাঁরা করেছে বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গল থেকে গ্রামে ফেরার পথে তাঁরা একটি শেয়ালকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখেন। এর পরই শেয়াল শিকারের জন্য বিস্ফোরক ভর্তি মাংসের টুকরো রেখে দেওয়া হয়। শিয়াল সেই মাংসের টুকরো মুখে পুড়তেই বিস্ফোরণ হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শিয়ালটি মারা যায়।

আরও পড়ুন- হাতির পর এবার গর্ভবতী গরু, বিস্ফোরকভর্তি ময়দার গোলা চিবিয়ে উড়ে গেল চোয়াল

ওই ১২ জন শিয়ালের মৃতদেহটি বস্তায় পুড়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের পিছনে রেখে দেয়। সেই চায়ের দোকানে একজন কনস্টেবল বসে ছিলেন। ১২ জনের ওই শিকারি দলের গতিবিধি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। তার পরই তিনি জিজ্ঞাসাবা শুরু করেন। ১২ জনের দলের কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখা দিলে কনস্টেবল থানায় খবর দেন। এর পরই বেরিয়ে আসে আসল সত্যি। ওই ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তাঁরা পুরো ঘটনা স্বীকার করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দোষীদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।