রেলের হতশ্রী দশা স্পষ্ট কাকোদকর কমিটির রিপোর্টেও

দিনে দিনে রক্তশূন্য হয়ে পড়ছে ভারতীয় রেল। আর্থিকভাবে চরম  দেউলিয়া অবস্থা রেলের। ক্যাগ রিপোর্টের পর এবার বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী অনিল কাকোদকারের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট থেকেও এমনই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে গত ৪ বছরে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়েও নজর দেয়নি রেল।

Updated By: May 17, 2012, 11:37 AM IST

দিনে দিনে রক্তশূন্য হয়ে পড়ছে ভারতীয় রেল। আর্থিকভাবে চরম  দেউলিয়া অবস্থা রেলের। ক্যাগ রিপোর্টের পর এবার বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী অনিল কাকোদকারের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট থেকেও এমনই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে গত ৪ বছরে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়েও নজর দেয়নি রেল। রেলের সম্পত্তি ক্ষয়ের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ। রেলের ক্যাপিটল ফাণ্ডে দেনা ৯০০০ কোটি টাকা।  
 
ক্যাগের এই রিপোর্ট নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই  সামনে এলো জাতীয় পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রাক্তন প্রধান অনিল কাকোদকারের রিপোর্ট। রেলে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে পূর্বতন রেলমন্ত্রী রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর নির্দেশে গঠিত হয়েছিল এই বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করেছে তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর।
 
কী আছে রিপোর্টে? রেলের রিজার্ভ ফাণ্ডের শোচনীয় দশার কথা রয়েছে কাকোদকর কমিটির রিপোর্টের ছত্রে ছত্রে। রেলের নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের খরচ হয় এই খাত থেকেই। কী চেহারা রিজার্ভ ফাণ্ডের? ২০০৬-২০০৭ আর্থিক বছরে রিজার্ভ ফাণ্ডে ছিল ৩,৭২৯ কোটি টাকা। ২০০৭-২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৭৫৭ কোটি টাকায়। কিন্তু  ২০০৮-০৯ তে তা কমে দাঁড়ায় ৩,৩৩৬ কোটি টাকায়। ২০০৯-১০ এক ধাক্কায় তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি টাকায়। ২০১০-১১ তে আরও কমে এই ফাণ্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৪ কোটি টাকায়। ২০১১-১২ আর্থিক বছরে এই সম্পত্তির পরিমাণ ৮.৯৭ কোটি টাকা।

এবার দেখে নেওয়া যাক রেলের উন্নয়নের খাতের চেহারা। ২০০৬-২০০৭ আর্থিক বছরে  উন্নয়ন খাতে ছিল ৩,১১১ কোটি টাকা। ২০০৭-২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৬৬৫ কোটি টাকায়।  ২০০৮-০৯ অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়ায় ২,২৯৯ কোটি টাকায়। ২০০৯-১০য়ে এক ধাক্কায় তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি টাকায়। ২০১০-১১তে ফাণ্ডের চেহারা দাঁড়ায় মাইনাস ১,২১৩ কোটি টাকায়। ২০১১-১২ আর্থিক বছরে এই সম্পত্তির পরিমাণ আরও কমে দাঁড়ায় মাইনাস ১,৩১২ কোটি টাকায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে গত ৪ বছরে রেলের উন্নয়নে কোনও নজরই দেয়নি রেলবোর্ড।
কমিটির সুপারিশ, রেলযাত্রীদের নূন্যতম নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে আগামী ৫ বছরে খরচ হবে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। গত ৩ বছরে রেলের এই আর্থিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার সময় রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিল রেলকে ঘিরে অসংখ্য প্রতিশ্রুতিও।

.