)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খাল থেকে উদ্ধার ১৫ বছর বয়সী ছেলের মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটে নয়ডায়। ইতোমধ্যেই পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ৪ জন অভিযুক্ত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছেলেটির বাবার আর্থিক বিরোধ চলছিল। যার জেরে তারা ওই কিশোরকে অপহরণ করার ছক কষেন নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজের অনুপ্রেরণায়। পরে তারা ওই কিশোরকে খুন করে।
জানা গিয়েছে, কিশোরের বাবা একজন ধাবার মালিক। মৃতের নাম কুণাল শর্মা। ১ মে তাঁকে তাঁরই বাবার ধাবার সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা জাল নম্বর প্লেট সহ সাদা গাড়িতে আসে। নয়ডা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বুলন্দশহরের মিলকা মোসামগড়ের একটি খাল থেকে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিস জানিয়েছে, বুধবার তিন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। চতুর্থ জন, যিনি একজন মহিলা ছিলেন। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে নয়ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন, কিশোরের বাবার সঙ্গে এই গ্যাংটির আর্থিক এবং ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। ২০২২ সালের একটি ওয়েব সিরিজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তারা ছেলেটিকে অপহরণ করে।
পুলিসের পুরো তদন্ত সাদা গাড়িটিকে কেন্দ্র করে ছিল। যা ধাবার বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া যায়। পুলিসকে বিভ্রান্ত করার জন্য অভিযুক্তরা গাড়ির সমস্ত স্টিকার সামনে থেকে পিছনে পরিবর্তন করেছিল। এমনকী তারা একটি জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বরও ব্যবহার করেছিল। যাতে পুলিসের গাড়িটিকে খুঁজে বার করতে অসুবিধা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৯ বছরের মনোজ শর্মা নয়ডার দাদরির বাসিন্দা; ২৫ বছরের হিমাংশু সিং বুলন্দশহরের বাসিন্দা; ২২ বছরের কুণাল ভাটি নয়ডার বাসিন্দা; ২০ বছরের তানভি একজন এমবিবিএস ছাত্রী।
ঘটনাটি পুলিস বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, ১ মে দুপুর ২.২০-তে তানভি ধাবায় আসেন। মৃত কিশোরের কাছে এসে বলে হিমাংশু তাঁর ধাবার বাইরে গাড়িতে আছে। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে আলোচনা করতে চান। কুণাল গাড়িতে ওঠা মাত্রই তাঁর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর অপহরণকারীরা জেপি উইশ টাউনে হিমাংশুর ভাড়া করা বাড়িতে কুণালকে নিয়ে আসে।
ওই ফ্ল্যাটে কুণাল এবং অপহরণকারীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। শেষমেষ তারা কুণাল মারধর করে। তাদের মধ্যে একজন জোর করে তাঁর মাথা দেওয়ালে ঠেলে দেয় এবং সে মারা যায়। তারপর তারা ট্রলি ব্যাগে কুণালের মৃতদেহ নিয়ে যায়। বুলন্দশহরের একটি খালে ফেলে দেয়। পরে তারা কুণালের জামাকাপড় এবং অপরাধের সময় যে জামাকাপড় পরেছিল তা সহ সমস্ত প্রমাণ ১২৭ সেক্টরের বখতাওয়ারপুরের একটি নালায় ফেলে দেয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময়, অভিযুক্তরা প্রকাশ করেছে যে মনোজ যিনি কুণালের আত্মীয় ছিলেন। তিনি কুণালের বাবা কৃষ্ণ কুমার শর্মার থেকে ২৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যিনি সুদে টাকা দেন। যখন মনোজ ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়। তখন কৃষ্ণ কুমার মনোজের ব্যবসা, ধাবাটি দখল করে নেন এবং তাঁর ছেলেকে এটি চালানোর দায়িত্ব দেন। এ নিয়ে কৃষ্ণ কুমারের উপর ক্ষুব্ধ মনোজ। হিমাংশু, যিনি মনোজের সাহায্যে কৃষ্ণ কুমারের কাছ থেকে ২ লক্ষ ঋণ নিয়েছিলেন , তাকেও পরিশোধ করার চাপ ছিল। তাই তারা প্রায় এক মাস আগে কৃষ্ণ কুমারের ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)