)
রাজীব চক্রবর্তী: সুপ্রিম কোর্টে কড়া তোপের মুখে সিবিআই। সিবিআইয়ের আবেদনকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলেও উল্লেখ করল শীর্ষ আদালত। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কোর্টের বিচারপদ্ধতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তোলে সিবিআই। আর তাতেই সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে সিবিআই।
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কোর্টে একের পর এক অভিযুক্ত জামিন পাওয়ায় এবং বিচারপদ্ধতি প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ তুলে অন্য রাজ্যে মামলা সরানোর আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই। গত ডিসেম্বরে একটি আবেদনের মাধ্যমে রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলাগুলি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য কোনও রাজ্যে বদলি করার আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই। সেই মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে আজ বিচারপতি অভয় এস ওকার বেঞ্চ কার্যত ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।
বিচারপতি বলেন, "আমরা যদি আবেদন মেনে নিয়ে মামলাগুলি অন্য রাজ্যে স্থানান্তর করার নির্দেশ দিই, তাহলে প্রকারান্তরে এই অভিযোগেই সায় দেওয়া হবে যে, রাজ্যের সব আদালত পক্ষপাতদুষ্ট। কারণ, জেলা, দায়রা ও সেশন বিচারকরা কেউ-ই এই মামলায় নিজেদের পক্ষে সওয়াল করতে আসবেন না। এটা বলা যায় না। সিবিআইয়ের আবেদন দুর্ভাগ্যজনক।" সিবিআই-কে আবেদন প্রত্যাহার করে নিতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, অপর একটি নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলাতেও কলকাতা হাইকোর্টের এক জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে।
বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে আবেদন। আবেদনে এক নিহতের পরিবার অভিযোগ জানিয়েছে, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে কলকাতা হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে। জামিন দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হচ্ছে এবং আরও দেরি হবে। এখন অভিযোগকারীরা আতঙ্কিত এই ভেবে যে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ায় তাদের উপর আক্রমণ নেমে আসতে পারে। এছাড়াও জামিন মঞ্জুর করার সময় অভিযোগকারীদের বক্তব্য আদালত শোনেনি বলেও অভিযোগ।
তাই হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারীর পক্ষে এদিন সুপ্রিম কোর্টে সাওয়াল করেন মহেশ জেঠমালানি। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, আবেদনের সারবত্তা থাকলেও হাইকোর্ট যে যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করেছে তাও একেবারে অগ্রাহ্য নয়। এই মামলায় রাজ্য সরকার সহ সব পক্ষকে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।