Exclusive, Pravin Tambe: Virat Kohli-র উইকেট থেকে বায়োপিক; অবজ্ঞার গলি থেকে উত্থানের ক্রিজে প্রবীণ

নাম লেখালেন রাজস্থানের রয়ালসে। দলের তৎকালীন মেন্টর রাহুল দ্রাবিড় মুম্বইয়ের এই লড়াকু ক্রিকেটারকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাও আবার ৪১ বছর বয়সে!

Updated By: Mar 10, 2022, 09:19 PM IST
Exclusive, Pravin Tambe: Virat Kohli-র উইকেট থেকে বায়োপিক; অবজ্ঞার গলি থেকে উত্থানের ক্রিজে প্রবীণ
রাজস্থান রয়্যালসে 'মেন্টর' রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে প্রবীণ। ফাইল চিত্র

সব্যসাচী বাগচী: 'বয়স ফ্যাক্টর নয়। পারফরম্যান্স শেষ কথা।' এই প্রবাদ প্রবীণ তাম্বের (Pravin Tambe) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 'বয়সটাই ফ্যাক্টর, তাই যোগ্য হলেও ছুঁড়ে ফেলে দাও।' সেটাও প্রবীণ তাম্বে নিজের জীবনে বারবার উপলব্ধি করেছেন। দক্ষ অ্যাকাউনট্যান্ট থেকে আইপিএল-এর মঞ্চে নিজেকে চেনানোর জন্য রাতের পর রাত কেঁদেছেন। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে অপমানিত হয়েছেন। কর্তাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সহ্য করেছেন অবজ্ঞা, লাঞ্ছনা। তবুও হাল ছাড়েননি।  

সেটা ২০১৩ সাল। মুম্বইয়ের বিখ্যাত কাঙ্গা লিগ থেকে একেবারে আইপিএল (IPL) জগতে পা রাখলেন। নাম লেখালেন রাজস্থানের রয়ালসে (Rajasthan Royals)। দলের তৎকালীন মেন্টর রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid) মুম্বইয়ের এই লড়াকু ক্রিকেটারকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাও আবার ৪১ বছর বয়সে! এর চেয়েও চমকপ্রদ ঘটনা হল ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রবীণ হলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি একটিও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ না খেলে সরাসরি আইপিএল খেলেছিলেন।  

ভারতীয় ক্রিকেটে অনুপ্রেরণার অন্য নাম হয়ে উঠেছেন মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটার। এ বার তাঁকে নিয়ে বায়োপিক আসতে চলেছে ওটিটি প্লাটফর্মে। ছবির নাম 'কৌন প্রবীণ তাম্বে?' (Kaun Pravin Tambe?) 'এমএস ধোনি- দ্য আনটোল্ড স্টোরি'র পরিচালক নীরজ পাণ্ডেই (Neeraj Pandey) এই ছবির নির্মাতা। পরিচালক জয়প্রদ দেশাই (Jayprad Desai)। লেগ স্পিনার প্রবীণের চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রেয়স তলপড়ে (Shreyas Talpade)। এহেন প্রবীণ তাঁর কেরিয়ারের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের গল্প জি ২৪ ঘণ্টার সামনে তুলে ধরলেন.....

প্রশ্ন: কপালকে দোষ দিয়ে কি লাভ! আপনার নামের সঙ্গেই তো 'প্রবীণ' শব্দ জুড়ে রয়েছে! 

প্রবীণ তাম্বে: আমি ফ্লিপার দিতে ওস্তাদ। তবে আপনি শুরুটাই বাউন্সার দিয়ে করলেন। শুরুতে এমন প্রশ্নের জন্য একেবারেই তৈরি ছিলাম না। একটা সময় বছরের পর বছর ব্রাত্য থাকার সময় বাবা-মার উপর রাগ করতাম। বলতাম, 'আমার নাম অন্য কিছু রাখলেও তো পারতে!' কিন্তু গত কয়েক বছরে এই নামটাই তো আমাকে বিশেষ পরিচিতি দিল। 'প্রবীণ' নামটা শুধু মুম্বই নয়, ক্রিকেট বিশ্বে অনেকেই জানেন। আগে কথায় কথায় অপমান জুটত, এখন লোকজন সম্মান করেন। অনেক না পাওয়ার মধ্যে এটাই প্রাপ্তি। তাই এখন আর 'প্রবীণ' নাম নিয়ে আপত্তি নেই। 

প্রশ্ন: এমএস ধোনি, মেরি কম, প্রয়াত মিলখা সিং-এর পর আপনাকে নিয়ে বায়োপিক হচ্ছে। কতটা আপ্লুত? 

প্রবীণ তাম্বে: অবশ্যই দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। আমার মতো একজন সামান্য ক্রিকেটারকে নিয়ে বায়োপিক তৈরি হচ্ছে। এরচেয়ে বড় সম্মান আর কি হতে পারে। তবে সঠিক ভাবে আমার যোগ্যতা মূল্যায়ন হলে আমিও ভারতীয় দলে খেলতে পারতাম। সেই আত্মবিশ্বাস আমার ছিল। কিন্তু ৫০ বছর বয়সে এসে যে আমার লড়াই, আমার ক্রিকেটীয় দক্ষতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে, এটাও কম প্রাপ্তি নয়। আশাকরি এই বায়োপিক দেখার পর আমার মতো অনেক ছেলে ফের একবার স্বপ্ন দেখা শুরু করবে। 

Pravin

প্রশ্ন: সদ্য 'কৌন প্রবীণ তাম্বে?' বায়োপিকের ট্রেলর মুক্তি পেয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে রাহুল দ্রাবিড় আপনার প্রশংসা করছেন। আপনার কেরিয়ারে ওঁর প্রভাব? 

প্রবীণ তাম্বে: আমার জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে রাহুল ভাই রয়েছেন। ২০১৩ সালে ওঁর জন্যই রাজস্থান রয়্যালসে সুযোগ পেয়েছিলাম। প্রথম বছর তেমন ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারিনি। তিন ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলাম। তবুও আমার উপর আস্থা হারাননি রাহুল ভাই। তাই পরের বছর ফিরে পেয়েছিলাম নিজেকে। ১৩ ম্যাচে পেয়েছিলাম ১৫ উইকেট। আসলে উনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। আমার লড়াইকে সম্মান দিতেন। এখনও ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ আছে। ওঁর মতো মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এটাই তো বড় প্রাপ্তি। 

 

প্রশ্ন: ট্রেলরে রিল লাইফের প্রবীণ তাম্বেকে দেখে কেমন লাগল? 

প্রবীণ তাম্বে: শ্রেয়স তলপড়ে কত বড় মাপের অভিনেতা সেটা আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। 'ইকবাল' সিনেমায় ওঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এই সিনেমাতেও শ্রেয়স আমার জীবন ও প্রতিদিনের লড়াই দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাছাড়া আমরা দুজনেই মারাঠি। দুজন আলাদা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও,আমাদের জীবনে একটা জিনিস 'কমন'। সেটা হল স্ট্রাগল ও নিরন্তর স্ট্রাগল। তাই এই প্রবীণকে সবাই মেনে নেবেন। 

প্রশ্ন: আইপিএল-এ খুব কম সময় খেললেও আপনি কিন্তু নজর কেড়েছিলেন। বিশেষ কোনও মুহূর্ত মনে পড়ছে? 

প্রবীণ তাম্বে: ২০১৪ সালটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আবুধাবিতে আরসিবি-র বিরুদ্ধে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছিলাম। এর মধ্যে ছিল বিরাট কোহলির উইকেট। সেটাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। এছাড়া সেই বছর আহমেদাবাদে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলাম। বোলার হিসবে অবশ্যই তৃপ্তি পেয়েছিলাম। 

Pravin and KKR

প্রশ্ন: নাইটদের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে সেরা উইকেট কার ছিল? 

প্রবীণ তাম্বে: মনীশ পান্ডে ও রায়ান টেন দুশখাতের উইকেট নিয়ে দারুণ অনুভূতি হয়েছিল। মনীশ ছিল প্রথম উইকেট। ও স্টেপ আউট করতেই আমি ওয়াইড করে দিয়েছিলাম। বাকি কাজটা সঞ্জু স্যামসন সেরে ফেলে। ইউসুফ কট অ্যান্ড বোল্ড হয়েছিল। আর রায়ানকে আমার সেরা অস্ত্র ফ্লিপার দিয়েছিলাম। ও লেগ বিফোর হয়েছিল। 

প্রশ্ন: ২০১৩ সালেই মুম্বইয়ের হয়ে রঞ্জি খেলার স্বপ্ন পূরণ করলেন। সেই অনুভূতি কেমন ছিল? 

প্রবীণ তাম্বে: আইপিএল আমাকে বিশ্ব মঞ্চে পরিচিতি দিলেও, রঞ্জি খেলতে না পারার জন্য একটা আফসোস রয়েই গিয়েছিল। অবশেষে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর ওডিশার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। সেই সময় আমাদের অধিনায়ক ছিলেন ওয়াসিম জাফর। ওঁর কাছ থেকেই 'ক্যাপ' পেয়েছিলাম। অনেকেই বিশ্বাস করবে সে দিন রঞ্জি ক্যাপ হাতে পেয়ে চোখে জল চলে এসেছিল। এমন একটা মুহূর্তের জন্য কত বছর অপেক্ষা করেছি, কত রাত না ঘুমিয়ে শুধু কেঁদে গিয়েছি বিশ্বাস করবেন না। 

Pravin and Virat

প্রশ্ন:কিন্তু মুম্বইয়ের হয়ে মাত্র ২টি রঞ্জি ও ৬টি বিজয় হাজারে খেলার সুযোগ পেলেন! আক্ষেপ নেই? 

প্রবীণ তাম্বে: অবশ্যই আক্ষেপ আছে। আমি বিশ্বাস করি বয়স কোনওদিন ফ্যাক্টর নয়। ফিটনেস ও পারফরম্যান্স শেষ কথা। কিন্তু যারা দল নির্বাচন করে তাঁদের দর্শন তো একেবারে আলাদা। আমি আমার সেরা পারফরম্যান্স করতে পারি। কিন্তু আমার অন্য প্রান্তে থাকা মানুষগুলোর দর্শন, তাঁদের ভাবনাচিন্তা তো বদলাতে পারি না। আর সেটা পারি না বলেই মাত্র কয়েকটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেললাম। 

প্রশ্ন: ৫০ বছর বয়সেও আপনি বিদেশে টি-টেন, টি-টোয়েন্টি লিগ খেলছেন। আপনার ফিট থাকার রহস্য?  

প্রবীণ তাম্বে: ফিটনেস বজায় রাখার জন্য অন্য ক্রীড়াবিদরা যা করে আমিও সেই নিয়ম মেনে চলি। আসলে ক্রিকেট খেললে আমি বাড়তি আনন্দ পাই। মাঠে থাকলে একটা ভাল অনুভূতি হয়। তাই সময় পেলেই অফিস কিংবা নিজের এলাকায় এখনও খেপ খেলে বেড়াই। এটাই আমার ফিট থাকার আসল রহস্য। 

Pravin Academy

প্রশ্ন: আপনি তো অ্যাকাডেমিও শুরু করেছেন। কেমন চলছে অ্যাকাডেমি? 

প্রবীণ তাম্বে: গত কয়েক বছর ধরে মালাড এলাকায় অ্যাকাডেমি চালাচ্ছি। আমার অ্যাকাডেমিতে ৭ থেকে ১৮ বছর, এবং এর থেকে বেশি বয়সের ছেলে- মেয়েরা কোচিং নিতে আসে। প্রতিভা থাকলেও আমি বঞ্চিত হয়েছি। আমার মতো পরিণতি যাতে আগামী প্রজন্মের না হয় সেই উদ্দেশ্য নিয়ে অ্যাকাডেমি শুরু করেছি। 

আরও পড়ুন: Shane Warne Passes Away: কবে, কোথায় স্পিন লেজেন্ড ওয়ার্নির শেষকৃত্য? জানতে পড়ুন

আরও পড়ুন: IPL 2022: মাঠে বল গড়ানোর আগেই ফের 'মাহি মার রাহা হ্যায়!'

(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)   

.