)
রণজয় সিংহ: ডাকাতদল পুজো করতেন পাঁচকালীর। পাঁচকালী মানে পাঁচবোন। এখনও সেই পাঁচবোন তথা পাঁচ কালীর পুজো হয়ে আসছে মালদহ শহরে। ডাকাত নয়, করছেন সাধারণ মানুষই। একদা ডাকাতদলের হাতে সূচনা হওয়া এই পুজোর দায়িত্বে এখন রয়েছেন এলাকাবাসীই।
এখনও পাঁচবোন-কালীর পুজো হয় এক সঙ্গে। বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা সহকারে একসঙ্গে পাঁচ বোনকে নিয়ে যাওয়া হয় মহানন্দা নদীর ঘাটে। সেখানেই পাঁচ বোনের বিসর্জন দেওয়া হয়। পাঁচটি মূর্তির দুটি পাথরের মূর্তি হয়ে যাওয়ায় সেই দুটি মূর্তির বিসর্জন হয় না। বাকি তিন বোনের বিসর্জন এখনও একসঙ্গেই হয়ে থাকে। মালদহ শহরের কালীতলা এলাকায় রয়েছে বড় বোন বুড়াকালী মন্দির, ষষ্ঠীতলা এলাকায় রয়েছে ডাকাতকালী, শহরের চিত্তররঞ্জন মার্কেট চত্বরে রয়েছে কাঁচাখাকি কালী ও মশানকালী আর ছোট বোন তারাকালীর মন্দির রয়েছে হাটখোলা এলাকায়।
কথিত আছে, একদা এই পাঁচবোন-কালীর পুজো শুরু করেছিল ডাকাতদল। মালদহ শহর তৈরির আগে এই অঞ্চল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। মহানন্দা নদীর তীরে এই ঘন জঙ্গলেই ডাকাতদল পাঁচটি কালীর পুজো করত। গভীর রাতে ডাকাতদল পুজো করে ফিরে যেত।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে ঘন জঙ্গলও এখন আর নেই। ইংরেজ কলোনির পর ধীরে ধীরে মালদহ শহর তৈরি হয়েছে। মন্দিরগুলিতে পুজো দিতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। এখন পাঁচটি পুজোর দায়িত্ব পালন করেন মন্দির চত্বরের বাসিন্দারাই। আলাদা আলাদা ভাবে পুজো হলেও এখনও প্রাচীন রীতি মেনেই পুজো হয় এই পাঁচবোন-কালীর।
প্রাচীন এই পাঁচবোন-কালী মন্দিরের জাঁকজমক বরং এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু ভক্ত এই পুজোয় সামিল হন এখন। এখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এই পুজো দেখতে আসেন। এখনও পুজোর পরপর বিসর্জনের উদ্দেশ্যে সমস্ত বোনকে মন্দির থেকে একসঙ্গে বার করা হয়। সব বোনকে ছোট বোন তারাকালীর মন্দির-প্রাঙ্গণে আগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাঁচ বোনের বিসর্জন-শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা করে সমস্ত মূর্তি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বিসর্জন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)