স্বাভাবিক হল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল, লকডাউন উঠল সাত সপ্তাহ পর

গত কয়েকদিনে সেখানে নতুন করে কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর ছিল না। 

Updated By: Apr 8, 2020, 11:00 AM IST
স্বাভাবিক হল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল, লকডাউন উঠল সাত সপ্তাহ পর

নিজস্ব প্রতিবেদন— বন্দিদশায় ছিলেন ১১ মিলিয়ন মানুষ। লকডাউনের জেরে স্তব্ধ ছিল চিনের উহান শহর। রাস্তাঘাট ছিল শুনশান। চিনের হুবেই প্রদেশের এই শহরকেই করোনাভাইরাসের উত্পত্তস্থল বলা হয়েছিল। এখান থেকেই সারা বিশ্বে মারণ ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেছিল। গত ডিসেম্বর মাস থেকে উহানে আগুনের মতো ছড়াতে শুরু করে করোনা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে চিন প্রশাসন উহানে অনির্দিষ্টকালীন লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে একইসঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই চালিয়েছে চিন। শেষ পর্যন্ত উহান শহর থেকে লকডাউন উঠল। সাত সপ্তাহ পর।

চিনের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। যদিও চিনের সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রশাসন অনেক তথ্য গোপন করছে। করোনা মারা গিয়েছেন প্রচুর মানুষ। কিন্তু চিনের প্রশাসন এত মানুষের মৃত্যুর খবর গোপন করেছে। চিন প্রশাসন জানিয়েছে, ৮৮ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানের উপরও বিশ্বাস রাখছে না চিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। চিনে সব থেকে বেশি আক্রান্ত ছিল উহান শহরে। তবে গত কয়েকদিনে সেখানে নতুন করে কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর ছিল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে দেখে লকডাউন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার, তাঁবুতে আইসোলেশনের ব্যবস্থা

লকডাউন উঠলেও উহান শহরের সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের দেওয়া কয়েকটি নির্দেশ মেনে চলতে হবে। তবে যেভাবে এই শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল তাতে কবে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু চিনের প্রশাসন শুরু থেকেই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। যার ফলে নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে পেরেছে তারা। সম্পূর্ণ লকডাউন করে শহরের আর সংক্রমণ বাড়তে দেয়নি তারা। তবে উহান শহরের সেই বিতর্কিত পশুর মাংসের বাজার আবার খু্‌লেছে। সেখানে বাদুড়, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদির মাংস বিক্রি হচ্ছে দেদার।