চার দশক পর মুখোমুখি আমেরিকা ও কিউবা, ওবামা-কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক বৈঠকের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব

বারাক ওবামা এবং রাউল কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক বৈঠকের পর কিউবা ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল শুক্রবার। সামিট অফ দ্য আমেরিকাস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পানামায় দুজন মিলিত হন।

Updated By: Apr 12, 2015, 10:09 AM IST
চার দশক পর মুখোমুখি আমেরিকা ও কিউবা, ওবামা-কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক বৈঠকের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব

ওয়েব ডেস্ক: বারাক ওবামা এবং রাউল কাস্ত্রোর ঐতিহাসিক বৈঠকের পর কিউবা ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল শুক্রবার। সামিট অফ দ্য আমেরিকাস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পানামায় দুজন মিলিত হন।

গত বছর ১৭ ডিসেম্বর আকস্মিকভাবেই কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা ঘোষণা করে আমেরিকা। রাউল কাস্ত্রোকে ফোন করেন ওবামা। তখনই প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়, ফের আমেরিকা ও কিউবার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে। হাভানার ওপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করবে ওয়াশিংটন। তারপর থেকেই শুরু হয় জল্পনা।

শনিবার পানামায় শুরু হয়েছে সামিট অফ দ্য আমরিকাস শীর্ষ সম্মেলন। মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশের নেতাদের নিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন। একুশ বছরে প্রথম এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে কিউবা। শুক্রবার পানামায় পৌছনোর পর ফোনে কথা বলেন ওবামা ও রাউল কাস্ত্রো। তার আগে  বৃহস্পতিবার রাতে কিউবার বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রড্রিগেজের সঙ্গে বৈঠক করেন আমেরিকার বিদেশসচিব জন কেরি। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর এই প্রথম দুদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কোনও বৈঠক হল। শুক্রবার নৈশভোজে মিলিত হন ওবামা ও রাউল কাস্ত্রো। সেখানে দুজনে করমর্দন করেন। যার সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব। শনিবার সম্মেলনের ফাঁকে মুখোমুখি কথা বলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। পানামা সিটির কনভেনশন সেন্টারের ছোট্টো কনফারেন্স রুমে এই ঐতিহাসিক বৈঠক হয়।

বৈঠকে রাউল কাস্ত্রো বলেন, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় রাজি কিউবা। সেইসঙ্গে তিনি এও বলেন যে মতপার্থক্য প্রকাশেরও স্বাধীনতা থাকবে দুপক্ষেরই। বারাক ওবামাও বলেন অতীতকে ভুলে পাতা উল্টে পারস্পরিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৬৯ শেষবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে কিউবার প্রাইম মিনিস্টার ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাত হয়েছিল। তারপর ধাপে ধাপে দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।