আইএসআইএস-এর লক্ষ্য কী এবার পশ্চিমবঙ্গ!

আইসিস নিশানায় ওপার বাংলা। কতটা সুরক্ষিত আমরা? খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর থেকেই এপার বাংলার একাধিক জেলায় সক্রিয় JMB। যারা ভারতীয় উপমহাদেশে IS-র সবচেয়ে বড় দোসর। তাই, এপার বাংলার শিয়রে সমন।

Updated By: Jul 2, 2016, 11:37 PM IST
আইএসআইএস-এর লক্ষ্য কী এবার পশ্চিমবঙ্গ!

ওয়েব ডেস্ক: আইসিস নিশানায় ওপার বাংলা। কতটা সুরক্ষিত আমরা? খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর থেকেই এপার বাংলার একাধিক জেলায় সক্রিয় JMB। যারা ভারতীয় উপমহাদেশে IS-র সবচেয়ে বড় দোসর। তাই, এপার বাংলার শিয়রে সমন।

বাংলাদেশের গুলশনে IS হামলা প্রথম নয়। শুক্রবার রাত ধরলে এটি বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের ১৯তম হামলা।

২০১৫-র সেপ্টেম্বর মাসে গুলশন এলাকায় ইতালিয় নাগরিক সিজার তাবেল্লাকে নিশানা করে IS. এরপর রংপুরে জাপানি গবেষককে হত্যা। দেশজুড়ে একের পর এক ব্লগার খুন। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে হামলা।

আইএস হামলার দায় স্বীকার করলেও, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যাদের গ্রেফতার করা হয় তারা সকলেই জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা JMB-র সদস্য।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সময় বর্ধমানে ঘাঁটি গেড়েছিল JMB
ভারতীয় উপমহাদেশে JMB-ই আইএসের সবচেয়ে বড় দোসর
ওপার বাংলার পাশাপাশি এপার বাংলার চিন্তা বাড়াচ্ছে এই তথ্য

কারণও খুব স্পষ্ট। বাংলাদেশের বুকে JMB-র সংগঠন যতটা শক্তিশালী, ততটাই সক্রিয় এপার বাংলার একাধিক জেলায়।

একদিকে সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া অন্যদিকে, বীরভূম ও ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকায় জেএমবির জাল ছড়িয়েছে

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরই তার আঁচ পেয়েছে NIA. খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরে JMB-র বেশকয়েকজন নেতা ধরা পড়লেও, মাথারা এখনও অধরা।

কেন বাংলাদেশকে টার্গেট করল ISIS ?

খাগড়াগড় পরবর্তী সময়ে এপার বাংলায় JMB  নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলছে, এমনই তথ্য হাতে এসেছে NIA-র।

এরসঙ্গে যোগ হয়েছে JMB-র মোটিভ। বাংলাদেশে জামাতুল মুজাহিদিনের লক্ষ্য বৃহত্তর বাংলাদেশ গঠন করে শরিয়ত আইন লাগু করা। JMB-র ধারণায় বৃহত্তর বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে এরাজ্যের বেশকিছু অংশও। তাছাড়াও জেএমবি-র সংগঠনে রয়েছে এরাজ্যের বহু যুবক। তাই এরাজ্যে গুলশনের মতো হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর আইএস রেডারেও যথেষ্ট উপরের দিকে রয়েছে এরাজ্য।

এরাজ্যে JMB-র সংগঠন যথেষ্ট শক্তপোক্ত। পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন ও সিমির মতো অন্যান্য ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের প্রভাব রয়েছে এরাজ্যে। সম্প্রতি এই সংগঠনগুলি আইএসের মতাদর্শে  বিশ্বাসী হয়ে পড়ছে।
 
এরাজ্যে থেকে অসংখ্য শ্রমিক প্রতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যান কয়েকবছর আগে দুবাই প্রবাসী হায়দরাবাদের এক মহিলাকে গ্রেফতার করে NIA। আইএসের নিয়োগকারী হিসাবে কাজ করতেন ওই মহিলা। তাঁর ডেটাবেসে এরাজ্যের কয়েকশ যুবকের নাম ছিল। তাই অপারেশনাল ও আইডিয়াল দুই জায়াগা থেকেই আইএস নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ।