বাঁকুড়ায় ভোট বয়কট এসএফআই-এর, পুরুলিয়ার আট কলেজে জিতল তৃণমূল

সন্ত্রাসের অভিযোগে বাঁকুড়ার ১৩ কলেজে ভোট বয়কট করল এসএফআই। অন্য দিকে বৃহস্পতিবার রাঢ়বঙ্গের আর এক জেলা পুরুলিয়ার জেলার মোট ১১টি কলেজের মধ্যে ৮টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

Updated By: Dec 23, 2011, 09:56 AM IST

সন্ত্রাসের অভিযোগে বাঁকুড়ার ১৩ কলেজে ভোট বয়কট করল এসএফআই। এসএফআইয়ের অভিযোগ, পুলিস-প্রশাসনের মদতে কলেজে কলেজে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ার ১৭টি কলেজের মধ্যে ১৩টি কলেজের ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে এসএফআই। অবশ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতৃত্বের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে ।
বাঁকুড়ার মোট ১৮টি কলেজের মধ্যে ১৭টি কলেজে নির্বাচন হবে চলতি মাসের ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখ। বুধবারই নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। সেদিনই খাতড়া আদিবাসী কলেজ ও শালতোড়া নেতাজি সেন্টিনারি কলেজে এসএফআই কর্মীদের ওপর তৃণমূল ছাত্র পরিষদ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ১০ জন এসএফআই কর্মী আহত হন। পাঁচমুড়া, চাতরা রামাইপন্ডিত, পিড়লগাড়ি, ইন্দাস, পাত্রসায়র সহ বাঁকুড়ার একাধিক কলেজে টিএমসিপির বিরুদ্ধে এসএফআই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র তুলতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অন্য দিকে বৃহস্পতিবার রাঢ়বঙ্গের আর এক জেলা পুরুলিয়ার জেলার মোট ১১টি কলেজের মধ্যে ৮টিতেই জয়লাভ করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। যার মধ্যে রয়েছে জঙ্গলমহলের সব ক`টি কলেজ। সিপিআইএম-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই জিতেছে দুটি কলেজে। একটি কলেজ নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে এসইউসিআই-এর ছাত্র সংগঠন ডিএসও। ছাত্র সংসদের নির্বাচনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার জেলা জুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা।

পুরুলিয়ার বিভিন্ন কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রকট হয়েছে শাসক জোটের শরিকি অনৈক্যও। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোট এবং চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই জোট অটুট থাকবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে পুরুলিয়ার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবেই লড়াই করল কংগ্রেস ও তৃণমূল  কংগ্রেস পরিচালিত ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ এবং টিএমসিপি। আর এই লড়াইয়ে ভরাডুবি হয়েছে ছাত্র পরিষদের।
জোট ভাঙার জন্য অবশ্য বিভিন্ন কলেজে ছাত্র পরিষদের দুর্নীতিকেই দায়ী করেছে টিএমসিপি। অন্য দিকে ছাত্র পরিষদ নেতা মহসীন খান তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ নস্যাত্‍ করে জানিয়েছেন, বড় শরিকের দাদাগিরির জন্যই জোট হয়নি। পাশাপাশি তাঁর ঘোষণা, ভবিষ্যতেও টিএমসিপি`র সঙ্গে জোট করবে না ছাত্র পরিষদ।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেতা ৮টি কলেজের মধ্যে রয়েছে জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় জে কে কলেজ। এছাড়া বলরামপুর, বড়াবাজার, রঘুনাথপুর, নিতুড়িয়া, ঝালদা, সুইসা এবং লৌলাড়া কলেজেও জয়ী টিএমসিপি। কাশিপুর মাইকেল মধূসুদন দত্ত কলেজ এবং মানবাজার কলেজে জয়লাভ করেছে এসএফআই। জেলার একমাত্র মহিলা কলেজ নিস্তারিনী কলেজে জিতেছে ডিএসও।