'শান্তি আলোচনা' চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন রাজ্যপালের, রাজি মমতা, দাবি ধনখড়ের

যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধারের ঘটনা থেকে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের সূত্রপাত।

Updated By: Dec 6, 2019, 11:52 PM IST
'শান্তি আলোচনা' চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন রাজ্যপালের, রাজি মমতা, দাবি ধনখড়ের

শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়: বিবাদ মেটাতে সংলাপই পথ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক দূরত্ব মেটাতে উদ্যোগী হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। নিজেই জানালেন, বিধানসভার অধিবেশন ও  মমতার দিঘা সফরের পর আলোচনায় বসবেন তাঁরা। 

রাজ্যপাল ও মমতার দ্বৈরথে এখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। দুপক্ষই অনড়। রাজ্যপালকে নাম না করে বিজেপির মুখপাত্র বলে খোঁচা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভার গেটের বাইরে রাজ্যপাল পাল্টা দিয়েছিলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। এবার বরফ গলাতে উদ্যোগী হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। নিজেই ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বরে। রাজ্যপালের কথায়,''ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। উনি জানিয়েছেন, বিধানসভা ও দিঘা সফরের পর কথা বলবেন।'' 

কেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন রাজ্যপাল?  ধনখড়ের বক্তব্য, গত ৪ মাস রাজ্যপালের পদে রয়েছি। উনি কোনও অভিযোগ করেনিনি। অতিসম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ওনার অভিযোগ দেখতে পাচ্ছি। কী কারণে কোথায় সমস্যা হচ্ছে ওনার কাছে জানব। 

যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধারের ঘটনা থেকে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের সূত্রপাত। সর্বশেষ গোল বেঁধেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে। রাজ্যপাল বিলগুলিতে অনুমোদন না দেওয়ায় সেগুলি আটকে রয়েছে। সেজন্য বিধানসভায় আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না। দুদিনের জন্য সভা মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যপালের দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না আসাতেই বিলে সই করেননি। তিনি রাবার স্টাম্প নন। তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আবার বিধানসভায় জমে ওঠে রাজ্য-রাজ্যপাল নাটক। বন্ধ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ধনখড়। বলেন, "গণতন্ত্র এভাবে চলতে পারে না স্পিকারকে আগে থেকে জানানো সত্বেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমার হৃদয়ে আজ রক্তাক্ত হয়েছে। ইতিহাসে কোনওদিন এমন হয়নি, আমি অবাক হয়েছি।" 

 ইনফোমের মঞ্চে খোদ মুখ্যমন্ত্রী জবাব দেন, 'মহারাষ্ট্রের চেয়ে একশো গুণ বেশি সইতে হচ্ছে। রোজই লেগে রয়েছে। দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিলে অনুমতি না দেওয়ায় বিধানসভা মুলতবি করতে হয়েছে। তাও বিলগুলি চূড়ান্ত নয়। সেগুলি নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হওয়ার কথা।'' এদিন রাজ্যপালের বক্তব্যে সংঘাত মেটার একটা ইঙ্গিত মিলেছে। আগামীই বলবে, আলোচনায় আদৌ বরফ গলে কিনা!

আরও পড়ুন- জ্যোতিপ্রিয়র ঘরের বাইরে ঠায় দাঁড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক সুনীল, 'না' তৃণমূলের