পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, সপা`র সংসদীয় বোর্ডে পাল্লা ভারি অখিলেশের

`বর্তমান` নয়, `ভবিষ্যত`-এর নেতাকেই লখনউয়ের কুরসিতে চাইল সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব! বুধবার সমাজবাদী পার্টির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে দলের অধিকাংশ নেতাই উত্তরপ্রদেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দলের রাজ্য সভাপতি অখিলেশ যাদবের নাম প্রস্তাব করেন।

Updated By: Mar 7, 2012, 01:48 PM IST

'বর্তমান' নয়, 'ভবিষ্যত'-এর নেতাকেই লখনউয়ের কুরসিতে চাইল সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব! বুধবার সমাজবাদী পার্টির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে দলের অধিকাংশ নেতাই উত্তরপ্রদেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দলের রাজ্য সভাপতি অখিলেশ যাদবের নাম প্রস্তাব করেন। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই এদিন সপা'র সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক শেষ হয়েছে। হোলির পর দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গঠিত পরিষদীয় দলের বৈঠকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করা হবে।
গতকাল বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ জানিয়েছিলেন, 'নেতাজি' মুলায়ম সিং যাদবই উত্তরপ্রদেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু তা হলে কেন হঠাত্‍ এদিন সপা'র সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে অখিলেশের নাম উঠে এল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের মতে সমাজবাদী পার্টির প্রত্যাশা ছাপানো জয়ই এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সৃষ্টির কারণ। বিধানসভা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, কংগ্রেস-আরএলডি জোট এবং বিজেপি'কে পিছনে ফেলে মায়াবতী সরকারের বিরুদ্ধে ৫ বছরের `অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর`-এর ফসল ঘরে তুলেছে সমাজবাদী পার্টি।
এবারই প্রথম রাজ্য বিধানসভার ৪০৩ আসনের মধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় `ম্যাজিক ফিগার` ২০২ অতিক্রম করে ২২৬-এ পৌঁছেছে মুলায়মের দল। অন্য দিকে গতবারের আসনসংখ্যার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়ে মাত্র ৮০টি কেন্দ্রে জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি। তৃতীয় স্থানাধিকারী বিজেপি'র ভাগ্যে জুটেছে ৪৭টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস ২৮ এবং জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় লোকদল(আরএলডি) মাত্র ৯টি কেন্দ্রে জিতেছে।

মুলায়ম-তনয় অখিলেশের নিরলস পরিশ্রম এবং সাংগঠনিক ক্ষমতাকেই এই বিপুল জয়ের কারণ বলে মনে করছেন সপা'র অধিকাংশ নেতা-কর্মী। তাঁদের মতে এটাই নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে আনার উপযুক্ত সময়। আর এদিন সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে এই চিন্তাধারাই প্রতিফলিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সমর্থনে সহরকার গড়তে হলে নিশ্চিতভাবেই মুখ্যমন্ত্রী হতেন মুলায়ম। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার চালানোর ক্ষেত্রে কনৌজের তরুণ তুর্কী সাংসদের উপরেই বাজি ধরতে চেয়েছেন সংসদীয় বোর্ডের সিংহভাগ সদস্য। এই পরিস্থিতিতে দলীয় সতীর্থদের আর্জিতে সাড়া দিয়ে অখিলেশ লখনউয়ের রাজ্যপাটে আসীন হবেন, না কি তা প্রত্যাখ্যান করে নিজের বাবাকেই সামনে এগিয়ে দেবেন, হোলির পর সপা'র পরিষদীয় দলের বৈঠকেই তা স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে বুধবার সকালে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল বি এল যোশির সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র পেশ করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। রাজভবনে মিডিয়ার মুখোমুখি না হলেও পরে সাংবাদিক বৈঠক করে বহেনজি বলেন, বিধানসভা ভোটে সমাজবাদী পার্টি জেতায় উন্নয়নের লেখচিত্রে উত্তরপ্রদেশ আবার পিছিয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, দলিত সমর্থন বিএসপি'র সঙ্গেই রয়েছে। উচ্চবর্ণের ভোটেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে মুলায়মের দল।