সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৬ শতাংশ ভোট পড়ল কর্ণাটকে

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনই কার্যত সেমিফাইনাল কংগ্রেস ও বিজেপির সামনে। ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে চাঙ্গা হবে কংগ্রেস। অন্যদিকে, দাক্ষিণাত্যে আবার পদ্ম ফুটলে নরেন্দ্র মোদীর কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের স্বপ্নে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বিজেপি।

Updated By: May 12, 2018, 11:13 AM IST
সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৬ শতাংশ ভোট পড়ল কর্ণাটকে

নিজস্ব প্রতিবেদন : একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে শনিবার ভোট দিচ্ছে কর্ণাটক। ২২৪টি আসনের মধ্যে এদিন ভোটগ্রহণ হচ্ছে ২২২ আসনে। জয়নগর আসনে বিজেপি প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে পিছিয়ে গেছে ভোট। অন্যদিকে রাজরাজেশ্বরী নগরে একটি ফ্ল্যাট থেকে ১০ হাজার ভোটার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ফলে, সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ২৮শে মে সেখানে নতুন করে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ফল বেরবে ৩১শে মে।  তবে বাকি ২২২টি আসনে ভোটদান হচ্ছে শনিবারই। সেখানে ফল ঘোষণা ১৫ই মে।

কর্ণাটক নির্বাচনে মূল লড়াই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার দল জেডি(এস)। অধিকাংশ সমীক্ষাই বলছে দক্ষিণের এই রাজ্যে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হতে চলেছে। ফলে জেডি(এস)-ই এখানে কিং মেকার হয়ে উঠতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

আরও পড়ুন- কর্ণাটকে জোর টক্করে সামান্য এগিয়ে কংগ্রেস, ইঙ্গিত সমীক্ষার

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনই কার্যত সেমিফাইনাল কংগ্রেস ও বিজেপির সামনে। ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে চাঙ্গা হবে কংগ্রেস। অন্যদিকে, দাক্ষিণাত্যে আবার পদ্ম ফুটলে নরেন্দ্র মোদীর কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের স্বপ্নে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বিজেপি।

এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতারাই বিজেপির প্রথম সারিতে রয়েছেন। জেল ফেরত ইয়েদুরাপ্পা গেরুয়া শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। খনি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত রেড্ডি ভাইরাও এবারের নির্বাচনে টিকিট পেয়েছেন।

অন্যদিকে, লিঙ্গায়েত ও বীরশৈবদের ধর্মীয় সংখ্যালঘুর স্বীকৃতি দিয়ে বাজিমাত করার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। কৃষক আত্মহত্যা, কৃষিঋণ মকুবও তাদের ভোটের ইস্যু। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে ভেঙে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা। সিদ্দারামাইয়া সরকারের টিপু-জয়ন্তী পালনও এবার দক্ষিণের এই রাজ্যে বড় ইস্যু।

আরও পড়ুন- কর্ণাটকে ১৩০টিরও বেশি আসন পাবে বিজেপি: অমিত শাহ

২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটকে ১৩২টি বিধানসভা আসনে এগিয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেস ৭৭টি আসনে এবং জেডি(এস) ১৫টি আসনে এগিয়েছিল। মোদী হাওয়ায় প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট পায় বিজেপি। কংগ্রেস পায় ৪০ শতাংশ ভোট। একধাক্কায় অর্ধেক হয়ে যায় জেডি(এস)-এর প্রাপ্ত ভোটের হার।

তবে, ২০১৩-র বিধানসভা নির্বাচনে ২২৪টি আসনের মধ্যে ১২২টি আসন পেয়ে কর্নাটক দখল করে কংগ্রেস। বিজেপি এবং জেডি(এস), দু'দলই পায় ৪০ আসন। প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পায় কংগ্রেস। বিজেপি এবং জেডি(এস) ২০ শতাংশ ভোট। ইতিহাস বলে ১৯৮৫ সালের পর থেকে পরপর দু'বার কোনও দল কণাটকে জেতেনি। এবার, তাই আশায় বুক বেঁধেছে বিজেপি। তবে, চার বছর কেন্দ্রে সরকার চালানর পর তারাও প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার শিকার। এই পরিস্থিতিতে জেডি(এস)-এর হাতেই সরকার গড়ার চাবিকাঠি যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।