সপ্তাহে ৬০ লাখ টাকা মাইনের ফুটবলারকে গাড়ি চোর সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিসের!

গত চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ডিফেন্ডারকে গাড়ি চোর বলে সন্দেহ করা হবে কেন! 

Updated By: Aug 10, 2020, 12:33 AM IST
সপ্তাহে ৬০ লাখ টাকা মাইনের ফুটবলারকে গাড়ি চোর সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিসের!

নিজস্ব প্রতিবেদন- বছরে তাঁর আয় প্রায় ৩২ লাখ পাউন্ড। সপ্তাহে হিসাব করলে ৬০ হাজার পাউন্ড। এমন ফুটবলার তো চাইলেই একখানা বিলাসবহুল গাড়ি কিনতে পারেন। তাঁকে কি না পুলিস সন্দেহ করছে গাড়ি চোর হিসাবে! ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলে খেলেন তিনি। নাম-ডাক, ধন-দৌলত সবই আছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার-এর ফুটবলার তিনি। বর্তমানে লোনে রয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল নিউক্যাসল ইউনাইটেডে। তবে ব্রিটেনের পুলিস তাঁকে চেনে না। চিনলেও তাঁকে সম্মান দিতে রাজি নয়। কিন্তু কেন! 

৩০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল লি রোজ বা ড্যানি রোজকে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়ছে। যা নিয়ে ইংল্যান্ডে ব্যাপক ডামাডোল চলছে। জর্জ ফ্লয়েড মারা যাবার পর থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের উপর হওয়া অত্যাচারের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন। রোজও কৃষ্ণাঙ্গ। শুধুমাত্র সেই জন্যই কি তাঁর প্রতি পুলিসের এমন আচরণ! প্রশ্ন তুলেছেন রোজ নিজেই। না হলে গত চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ডিফেন্ডারকে গাড়ি চোর বলে সন্দেহ করা হবে কেন! আর কেনই বা সবার সামনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের নাম অপদস্থ করবে পুলিস!

সেকেন্ড ক্যাপ্টেনস পডকাস্ট-এ রোজ বলেছেন, ''১৫ বছর থেকেই আমাকে এই এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এখন তো ৩০ বছর বয়স হল। তাও নিস্তার নেই। বেশ কয়েকবার তো আমার সঙ্গে বন্ধুরাও ছিল। ওরাও পুলিসের আচরণে অবাক। দিনকয়েক আগে মায়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। গাড়ি পার্ক করার পরই দেখলাম রায়ট ভ্যান নিয়ে পুলিস হাজির। তিনটি ভ্যান এল। পুলিস অফিসার আমাকে বলল, আমি নাকি গাড়ি ঠিকভাবে চালাইনি! তখন বাধ্য হয়ে পরিচয়পত্র দেখালাম। এটা প্রথম নয়। প্রতিবার তাদের একই প্রশ্ন, গাড়িটি কি চুরি করা? তুমি কোথায় পেয়েছ? এখানে তুমি কী করছো? প্রমাণ করতে পারবে তো যে এটা তোমারই গাড়ি?'' বহুবার তিনি বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। রোজ আরো বলেন, ''কিছুদিন আগে আমি ট্রেনে ওঠার পর এটেন্ডেন্ট আমাকে দেখে বলে, তুমি জানো তো যে এটা প্রথম শ্রেণির কামরা? আমি বললাম, হ্যাঁ জানি। তখন সে আমার কাছে টিকিট দেখতে চাইল। ঠিক তখনই পাশ দিয়েই দুজন শ্বেতাঙ্গ মানুষ ট্রেনে উঠে গেল। কিন্তু ওদের কাছে টিকিট চাওয়া হল না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওদের টিকিট কেন দেখলে না? এটেডেন্ট বলল,, দরকার নেই।''