'চাকরি বা সরকারি সাহায্য না পেলে মাওবাদীদের দেখানো রাস্তাতেই হাঁটব!' অস্বস্তি বাড়াচ্ছে জঙ্গলমহল

"মাওবাদীরা খুন করে চাকরি পেয়ে গিয়েছে। আর আমাদের লোকেরা খুন হলেও আমরা চাকরি পাইনি। পাইনি সরকারি সাহায্যও। তাই মাওবাদীরা যে জঙ্গলের রাস্তা দেখিয়েছে সেই রাস্তাতেই হাঁটব।" 

Updated By: Sep 29, 2020, 05:25 PM IST
 'চাকরি বা সরকারি সাহায্য না পেলে মাওবাদীদের দেখানো রাস্তাতেই হাঁটব!' অস্বস্তি বাড়াচ্ছে জঙ্গলমহল
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদন : চাকরি বা সরকারি সাহায্য না পেলে মাওবাদীদের দেখানো রাস্তাতেই হাঁটব! মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল মাওবাদীদের হাতে নিহত ও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা।

রাজ্যে মাওবাদী আন্দোলনের অবসানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল সরকার। ক্ষমতায় এসেই মাওবাদীদের হাতে নিখোঁজ ও শহিদ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর। কিন্তু অভিযোগ, এত বছরেও সাহায্য পাননি মাওবাদীদের হাতে নিহত কিংবা নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন সময়ে জেলাশাসক থেকে নবান্ন পর্যন্ত দরবার করেছেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। 

নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য জঙ্গলমহলের এই শহিদ ও নিখোঁজ পরিবারগুলি মিলেই তৈরি করেছে যৌথ মঞ্চ। এবার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার বার্তা দিল যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের লোধা স্মৃতি ভবনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে বসে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া- এই ৪ জেলার শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, "মাওবাদীরা খুন করে চাকরি পেয়ে গিয়েছে। আর আমাদের লোকেরা খুন হলেও আমরা চাকরি পাইনি। পাইনি সরকারি সাহায্যও। তাই মাওবাদীরা যে জঙ্গলের রাস্তা দেখিয়েছে সেই রাস্তাতেই হাঁটব।" 

উল্লেখ্য়, সাম্প্রতিক সময়ে পিকে টিমের সঙ্গেও বৈঠক করে যৌথ মঞ্চ। শাসক দলের নেতৃত্বদের সঙ্গেও একাধিকবার আলোচনা হয়। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে নবান্ন পর্যন্ত ডেপুটেশন দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাই এবার তাঁরা সংঘাতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাওবাদী আমলে ঝাড়গ্রাম জেলায় নিখোঁজ হয়েছেন ৮১ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৬ জন, বাঁকুড়ায় ১ জন ও পুরুলিয়ায় ১৬ জন। দীর্ঘ দশ বছর পরেও এই নিখোঁজদের ডেথ সার্টিফিকেট মেলেনি। আর সেই কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু এক্ষেত্রেও সরকার নির্বিকার। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পূর্বে জঙ্গলমহলের সরকার বিরোধী এই রব ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক শিবির।

আরও পড়ুন, কোচবিহার বিজেপিতে 'বড়সড়' ভাঙন, পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুলে 'হেভিওয়েট' নেতা