মিঠাইয়ের গল্পে নয়া মোড় আসবে নাকি ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাবে, সেই চিন্তাতেই অস্থির দর্শককুল।
সম্প্রতি লালকুঠি ধারাবাহিকে ফের তাঁরা একসঙ্গে ফিরেছেন। ইতিমধ্যই তাঁদের জুটিতে মুগ্ধ দর্শক। তাঁদের জুটির নাম অনভি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ বউবাজার থেকে টালিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন অনন্যা। অভিনেত্রী ছাড়াও গাড়িতে ছিলেন তাঁর বাবা, বিস্বপ্রীয় গুহ। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে শুটিংয়েই যাচ্ছিলেন তাঁরা।
মিঠাই ধারাবাহিকে সেলিব্রেশনের অন্ত নেই। কিছুদিন আগেই নিপার বার্থডে সেলিব্রেশনে মেতেছিল তাঁরা। এবার পালা সিডের। তবে জন্মদিনের আগের দিন থেকেই সিডের ফ্যানেদের সেলিব্রেশন শুরু।
ভাবনা বন্দ্যোপাধ্যায়(Bhabna Banerjee) জি ২৪ ঘণ্টাকে জানান যে, পল্লবী ও সাগ্নিক তাঁর সঙ্গে বুধবার সিনেমা দেখতে গিয়েছিল এবং পল্লবী খুবই স্বাভাবিক ছিল। তাঁকে দেখে বোঝাই যায়নি যে সে কোনওরকম অবসাদে ছিল।'
পুলিস সূত্রের ব্যাখা, খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মৌখিক ওপিনিয়নে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিললেও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। সেটি আসার পরই স্পষ্ট হবে এটি খুন না আত্মহত্যা। ফলে বিষয়টিকে খুন হিসেবে ধরে নিয়েই তদন্ত চলেছে।
জি ২৪ ঘণ্টাকে সাগ্নিকের প্রাক্তন স্ত্রী সুকন্যা মান্না জানান যে,'আমার বিগত দু তিন বছর ওদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। পল্লবী আমার বন্ধু ছিল, সাগ্নিক ওকে চিনতই না। আমার মাধ্যমেই ওদের পরিচয় হয়। আমার পিছনে ও সাগ্নিকের সঙ্গে মেলামেশা করত আর আমার কাছে তা অস্বীকার করত।'
পল্লবী-সাগ্নিকের সম্পর্কে ছিল অন্য নারী।পল্লবীর অনুপস্থিতিতে তাদের গড়ফার ফ্ল্যাটে আসত। এমনকী রবিবার এমআর বাঙুর হাসপাতালেও হাজির হয়েছিলেন তিনি।
হাসিখুশি প্রাণোচ্ছ্বল মেয়েটি যে দুদিন আগে অবধি শুটিং করেছে সে যে এরকম করতে পারে তা ভাবতে পারেননি কেউ। মন মানে না ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। কীভাবে তাঁকে ছাড়া এগোবে ধারাবাহিক?
অভিনেত্রীর পরিবার আগেই অভিযোগ করেছে যে, পল্লবী ছাড়াও একাধিক নারীর সঙ্গে সাগ্লিকের (Sagnik Chakraborty) সম্পর্ক ছিল। তাঁর অবর্তমানে বাড়িতে অন্য নারীদের নিয়ে আসত সাগ্নিক (Sagnik Chakraborty)।
পল্লবীর পরিবারের তরফে অভিযোগ,৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিউটাউনে একটি ফ্ল্যাট বুক করা হয়। পল্লবীর আইটিআর ছিল না। কিন্তু ওই ফ্ল্যাটের জন্য সাগ্নিক ৫৬ লক্ষ টাকা পল্লবীর থেকেই নিয়েছিল,পরবর্তী কালে সেই ফ্ল্যাট সাগ্নিক তাঁর বাবার নামে করে নেয়।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ নিজের পরিচারিকাকে ফোন করেছিলেন পল্লবী (TV Actress Pallavi Dey)। তাঁকে ওইদিন কাজে আসতেও বলেছিলেন অভিনেত্রী।
অভিযোগ পল্লবীর(Pallavi Dey) সঙ্গে লিভ-ইন থাকাকালীন সময়েই হাওড়ার জগাছার বাসিন্দা ঐন্দ্রিলা সরকার নামে এক মহিলার প্রেমে পড়েছিল সাগ্নিক(Sagnik Chakraborty)। পল্লবীর অনুপস্থিতিতে ঐন্দ্রিলা তাদের গড়ফার ফ্ল্যাটে আসতেন বলে অভিযোগ করেন পল্লবীর বাবা-মা।
সোমবার সকালে পল্লবীর বাবা-মা ও ভাই পল্লবীর লিভ ইন পার্টনার সাগ্নিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ জানাতে হাজির হন গরফা থানায়। রবিবার থেকে সাগ্নিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছে পল্লবীর বাবা। এবার সেই সব অভিযোগ নিয়ে আইনি পথে মেয়ে মৃত্যুর তদন্ত চায় তাঁর পরিবার।
বাড়ির কেয়ারটেকারের দাবি যে, মাঝে মাঝেই তাঁদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হত, মারামারিও হত। তবে রবিবার ঝগড়ার কোনও আওয়াজ পাওয়া যায়নি।
সূত্রের খবর, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরিররত সাগ্নিক চক্রবর্তী আগেই বিবাহিত ছিলেন। রবিবার পুলিসের জেরার মুখে সাগ্নিক জানিয়েছেন যে পল্লবীর সঙ্গেই সংসার করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই ইতিমধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদর আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সাগ্নিক(Sagnik) জানান, কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন পল্লবী(Pallavi Dey)। যে সিরিয়ালে কাজ করছিলেন সেটি কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। হাতে নতুন কোনও কাজ ছিল না।
পল্লবী দের বাবা নীলু দে জানান যে, 'শনিবার দুপুরে ওর মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয় পল্লবীর। মাকে ফোন করে ধোকার ডালনার রেসিপি জানে ও।'
পল্লবীর বন্ধু সায়ক চক্রবর্তী বলেন, 'পল্লবীর সঙ্গে ওর বয়ফ্রেন্ডের সমস্যা ছিল। কী প্রবলেম ছিল জানি না। শুধু জানি ও খুব ভালো মেয়ে এটা করতে পারে না।'
পরিবারের দাবি, আজ সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় ঘরে পাওয়া যায় পল্লবীকে। তড়িঘড়ি এমআর বাঙুল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।