রোজ করোলার রস খান, নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিসের সমস্যা!

উচ্ছে বা করোলা কী ভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আসুন জেনে নেওয়া যাক...

Sudip Dey | Updated: Apr 10, 2019, 01:21 PM IST
রোজ করোলার রস খান, নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিসের সমস্যা!
--প্রতীকী চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা ক্রমশ মানুষের অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। অষুধ, শরীরচর্চা আর নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনও ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে সারা বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৮০ লক্ষ, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৪২.৫ কোটি। ডায়বেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিত্সকদের কাছে। কারণ, এই রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১১ লক্ষ ৬ হাজার ৫০০। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় ডায়বেটিসের কারণ।

ডায়বেটিসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল, একটা সময়ের পর কোনও ওষুধেই তেমন কাজ হয় না। তখন ইনসুলিন ইনজেক্সনই হয়ে ওঠে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের একমাত্র ভরসা। তবে প্রতিদিন ওষুধ, ইনজেক্সন না নিয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তার জন্য তিনটি সবজি নিয়মিত খেলেই হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সবজিগুলির সম্পর্কে যেগুলি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব...

১) মূলা: মূলা বা মুলোয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। সামান্য পাতি লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন কয়েক টুকরো মুলো খেতে পারলে রক্তে শর্করার মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

২) করোলা বা উচ্ছে: তিক্ত স্বাদের জন্য করোলা বা উচ্ছে অনেকেই তেমন পছন্দ করেন না। কিন্তু জানেন কি, করোলায় রয়েছে ‘পলিপিটাইড-পি’ নামের একটি যৌগ যা স্বাভাবিক ভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন অন্তত এক কাপ করে করোলা বা উচ্ছের রস খেতে পারলে ডায়বেটিসের সমস্যায় ভাল ফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে রয়েছে মৃত্যুর আশঙ্কা!

৩) ঢ্যাড়স: মাত্র তিনটি ঢ্যাড়স সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে রক্তের শর্করার মাত্রা। তিনটি ঢ্যাড়স জলে ভাল করে ধুয়ে তার ডগার অংশ আর বৃন্তের অংশ বাদ দিয়ে দিন। এ বার ঢ্যাড়সগুলি লম্বা লম্বা করে চিরে দিয়ে সারা রাত এক গ্লাস জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই ঢ্যাড়স ভেজানো জল খেয়ে নিন। এই জল খাওয়ার আগে এবং জল খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক কতটা কমল, তা হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে যাবেন।

প্রবন্ধে উল্লেখিত সবজিগুলি দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় টোটকা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানে এর তেমন কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটার অভ্যাস করুন। চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলুন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিসের আতঙ্কে নয়, বাঁচুন নির্ভয়ে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড।