বিভিন্ন শিফটে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি! দাবি গবেষকদের

বিশেষজ্ঞদের মতে, 'রোটেশনাল শিফট'-এ কাজ করার কারণে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা শরীরের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হয়। 

Edited By: সুদীপ দে | Updated By: Feb 12, 2020, 10:30 AM IST
বিভিন্ন শিফটে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি! দাবি গবেষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদন: কর্পোরেট সেক্টরের ইঁদুর দৌড়ে এগিয়ে থাকতে দিনরাত এক করে ফেলেছেন! দিনের পর দিন ক্রমাগত চলছে নাইট শিফট? নিজের অজান্তেই নিজেকে ঠেলে দিচ্ছেন মৃত্যুর মুখে!

দিল্লির ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিকেল সায়েন্সেস’-এর গবেষকদের মতে, যাঁরা ‘শিফট’ ভিত্তিক চাকরি করেন তাঁদের ঘুম ও বিপাকক্রিয়াজনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। আর এই সমস্যাগুলি একজন মানুষকে ক্রমশই ঠেলে দিতে থাকে হৃদরোগ, ‘স্ট্রোক’ এবং ‘টাইপ টু ডায়াবেটিস’-এর দিকে। এই বিপদের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকছে 'নাইট শিফটে' কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, 'রোটেশনাল শিফট'-এ কাজ করার কারণে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা শরীরের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হয়। ‘সার্কাডিয়ান রিদম’য়ে বিশৃঙ্খলার কারণে, নষ্ট হয় হরমোনের ভারসাম্য। আর এই ভারসাম্যহীনতাই বিপাকক্রিয়াজনীত সমস্যা তৈরি করে এবং ডেকে আনে একাধিক দীর্ঘমেয়াদী রোগ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেখানে রাতের ‘শিফট’-এ কাজ করা এমন নার্সদের ৯ শতাংশ আক্রান্ত হন বিপাকক্রিয়াজনীত বিভিন্ন সমস্যায়। সেখানে দিনের ‘শিফট’-এ কাজ করা নার্সদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১.৮ শতাংশ। নিজেকে সুস্থ রাখতে মেনে চলুন কয়েকটি পরার্মশ....

১) অতি অব্যশই উচিত প্রতিদিন একই সময় ঘুমানো, নিদেনপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে নজর রাখতে হবে তা হল ঘুমানোর সময়টা সন্ধ্যা কিংবা রাতের যতটা সম্ভব কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা। এতে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-এ বিশৃঙ্খলার মাত্রা কমবে।

২) এছাড়া অবসাদ কাটাতে বাড়তি ২০ থেকে ১২০ মিনিট ঘুমানোর অভ্যাস করতে পারেন। আলোর সংস্পর্শে থাকলে জেগে থাকা সহজ হয়। তাই রাতের কর্মীদের যত বেশি সম্ভব আলোতে থাকার পরামর্শ দেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন: Coronavirus: চাইনিজ ফুড করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?

৩) ‘শিফট’ ভিত্তিক কর্মীদের খাবারে মুখরোচক স্ন্যাকস জাতিয় খাবারের তালিকাই বেশি। এ ধরনের খাবারে ‘স্যাচুরেইটেড ফ্যাট’ ও চিনির মাত্রা তুলনামুলক বেশি থাকে আর প্রোটিন ও সবজি থাকে কম। কোনও এক বেলার খাবার না খাওয়ার মাত্রাও তাদেরই বেশি। তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে বানানো খাবার খাওয়াই শ্রেয়।