বন্ধুর মুখোশে শত্রু! চিনে নিন আপনার মেদহীন শরীর গঠনের পথে মূল বাধাদের

Updated By: Oct 3, 2015, 09:33 PM IST
বন্ধুর মুখোশে শত্রু! চিনে নিন আপনার মেদহীন শরীর গঠনের পথে মূল বাধাদের

ওজন ঝড়াতে চাইছেন? প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, ডায়েটে পরিবর্তন এনেছেন, করছেন এক্সারসাইজও। কিন্তু কিছুতেই ফল মিলছে না। জেনে নিন আপনার রোজকাল রোজকার রুটিনের কী এমন লুকিয়ে আছে যা আপাত বন্ধুতার মুখোশের আড়ালে আপনার সঙ্গে চরম শত্রুতা করে চলেছে, বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আপনার নির্মেদ শরীর গঠনের পথে।

১) সুগার ফ্রি পানীয়- একাদেমি অফ নিউট্রিশন ও ডায়েটিক্সের জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, আপনি যখন সুগার ফ্রি পানীয় পান করেন, তখন অজান্তেই আপনার চিনি, সোডিয়াম, কোলেস্টরল, ফ্যাট ঠাসা খাবার খাওয়ার প্রতি প্রবণতা বাড়ে, ফলে আখেরে ব্যর্থ হয় আপনার ওজন কমানোর প্রক্রিয়া। 

২)ক্র্যাশ ডায়েট- রোগা হওয়ার তাগিদে রাতারাতি যদি আপনার ডায়েটে পরিবর্তন আনেন, তাহলে লাভের থেকে অনেকবেশী ক্ষতি হয়। ভেঙে পরে শরীর। প্রাত্যহিক ক্যালোরি গ্রহণ ধীরে ধীরে নিয়ম মত না কমালে হাজারটা অবাঞ্চিত সমস্যায় দীর্ণ হবে আপনার শরীর। হঠাৎ করে ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে ফেললে মস্তিষ্ক ভাবতে শুরু করে আপনি বুঝি অনাহারে ভুগছেন। ফলে শরীরকে সে  ফ্যাটজাত খাদ্য বেশি মাত্রায় গ্রহণের সিগন্যাল পাঠায়। 

৩) শুধুমাত্র শরীরচর্চা- এটা শুনে খানিক চমকে যেতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি এক গবেষণা অনুযায়ী ওয়ার্ক আউটের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওজন কিছুটা কমে বটে, কিন্তু তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী নয়। যারা ওজন কমানোর জন্য শুধুমাত্র এক্সারসাইজের উপর ভরসা করেন তারাই সাধারণত অনেক বেশি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান। 

৪) ওয়েট লস সাপ্লিমেন্টারি- ওজন কমানোর নামে বাজারে এখন হাজার রকমের বড়ি, সিরাপ পাওয়া যায়। প্রত্যেক সংস্থার দাবি এই ওয়েট লস সাপ্লিমেন্টারিগুলি নাকি ওজন কমাতে ওস্তাদ। খাওয়া দাওয়ায় কাটছাঁট না করে, শরীরচর্চার জন্য পরিশ্রম না করেই যদি টপাটপ বড়ি গিলে বা সিরাপ পান করে যদি ওজন কমানোর এই আহ্বান কিন্তু ভয়ানক লোভনীয়, এতে সাড়া না দেওয়া কিন্তু বেশ সমস্যার। সাবধান হোন। এই সাপ্লিমেন্টগুলো আসলে আপনার ওজন কমানোর পথে অন্যতম বাধা। এদের ক্ষতিকর প্রভাব ভয়াবহ। ফ্যাট ঝড়ানোর পরিবর্তে এগুলি আসলে পেশীর জোর কমিয়ে দেয়। 

৫) মশলাহীন খাদ্যগ্রহণ- ওজন কমানোর চাহিদায় ডায়েট থেকে মিষ্টি, তেল কাটছাঁট করার সঙ্গে কি নির্বাসনে পাঠিয়েছেন মশলাকেও? ভুলেও এই ভুলটি করবেন না প্লিজ। বিভিন্ন মশলা, বিশেষত রান্নায় সবুজ লঙ্কার ব্যবহার কমিয়ে দিলে আপনার ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় জলে যেতে পারে কিন্তু। সবুজ লঙ্কায় যে ক্যাপসাইসিন তাকে তা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ক্যাপসাইসিন স্নায়ুর উপর এমনভাবে কাজ করে যার প্রভাব পরে পাকস্থলীর উপর। অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, পাকস্থলীর মধ্যে ক্যাপসাইসিন রিসেপটর থাকে। এই রিসেপটরের সঙ্গে ক্যাপসাইসিন যোগ হলে তা পেট ভরে যাওয়ার সিগন্যাল দিতে থাকে। 

৬) ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম- ওজন কমানোর প্রসঙ্গ আসলে কেমন করে যেন চলে আসে ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে ফেলার পরামর্শন। আপনি যদি এই ভাবনার প্রতি 
খুব বেশি গোঁড়া হয়ে থাকেন তাহলে সময় থাকতেই সেই ভাবনায় এবার লাগাম পরান। সেল মেটাবলিজিম জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী হঠাৎ করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া কমিয়ে ফেললে খুব একটা লাভ হয় না। তার থেকে খাবারে কমিয়ে ফেলুন স্নেহ পদার্থ, কাজে দেবে বেশি।

৭) এক্সারসাইজ করার সময় এসএমএস করা- এই কারণটি খানিক অদ্ভুত। কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী এক্সারসাইজ করার সময় আপনি যদি স্মার্টফোনে টেক্সট করা এবং কল করা চালিয়ে যেতে থাকেন তাহলে যতই শরীরচর্চা করুন না কেন, আপনার ওজন খুব ঢিমে তালে কমতে থাকবে।