১৩ দিন ধরে ৯০ ফিট গভীর গর্তে আটকে শ্রমিক, উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন হাত তুলে দিয়েছে

পেটের দায়ে শ্রমিকরা একে তো জীবনের বাজি রেখে কাজ করেন। তার ওপর কোনো অঘটন ঘটলে তাঁদের মৃতদেহ পর্যন্ত পরিবারের হাতে তুলে দিতে পারে না প্রশাসন।

Updated By: Oct 12, 2020, 05:17 PM IST
১৩ দিন ধরে ৯০ ফিট গভীর গর্তে আটকে শ্রমিক, উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন হাত তুলে দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন- ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটে নাগাদ তিনি ওই কুয়োয় কাজ করতে নেমেছিলেন। বাড়ির লোককে বলে গিয়েছিলেন, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফিরে আসবেন। কিন্তু ১৫ দিন বাদেও ফিরলেন না। রাজস্থানের পালি জেলার ঘটনা। ৪৫ বছর বয়সী শ্রমিক মুপারাম মিনা ৯০ ফিট গভীর একটি কুয়োয় আটকে রয়েছেন। পুলিসের তরফে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে, সেই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের আগেই কী করে পুলিস-প্রশাসন তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেয়! এদিকে শ্রমিকের বাড়ির লোক সব আশা ছেড়ে দিয়েছে। তাঁদের এখন দাবি, যেভাবেই হোক প্রশাসন যেন ওনার মৃতদেহ অন্তত উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রশাসন তাতেও ব্যর্থ।

রাজস্থানের পালি জেলার সুমেরপুর গ্রামে একটি গভীর কুয়োয় নেমে কাজ করছিলেন ওই শ্রমিক। তাঁর সঙ্গে আরো একজন ছিলেন। বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই ধস নামে। একজন শ্রমিক কোনওরকমে কুয়ো থেকে উঠে প্রাণ বাঁচান। কিন্তু উঠতে পারেননি মুপারাম। প্রশাসন জানিয়েছে,  ধস নামায় প্রায় কুড়ি ফুট নিচে চাপা পড়েছেন ওই শ্রমিক। তাই তাঁর বেঁচে থাকার আর কোনও সম্ভাবনাই নেই। প্রশাসনের তরফে বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছিল। পূর্ত দফতর, রেলের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অত্যাধুনিক মেশিন আনা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশাসন এখন সব আশা ছেড়ে দিয়েছে। জানানো হয়েছে, আর কোনোভাবেই ওই শ্রমিকের দেহ তোলা সম্ভব নয় ।

আরও পড়ুন-  গত ১৩ দিনে দেশে করোনা আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ, তবে নামছে দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফ!

প্রশাসন জানাচ্ছে, সবরকম চেষ্টা করা সত্ত্বেও ওই শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এদিকে ঘটনার দিন থেকে সেই কুয়োর পাশেই বসে ছিলেন শ্রমিকের পরিজনরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, কোন চমৎকার হবে। মুপারামকে জীবন্ত উদ্ধার করা যাবে। কিন্তু ১৫ দিন কেটে যাওয়ার পর প্রশাসনের সঙ্গে তাঁরাও আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দেহ উদ্ধারে প্রশাসনের ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। পেটের দায়ে শ্রমিকরা একে তো জীবনের বাজি রেখে কাজ করেন। তার ওপর কোনো অঘটন ঘটলে তাঁদের মৃতদেহ পর্যন্ত পরিবারের হাতে তুলে দিতে পারে না প্রশাসন। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ডামাডোল চলছে। শ্রমিকের পরিজনরা দাবি করেছেন, যেভাবেই হোক প্রশাসনকে মৃতদেহ উদ্ধার করতে হবে।