রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত খুনের ঘটনায় রাজনীতি শুরু! গ্রেফতার এক

গুরুতর আহত অবস্থায় সেই পুরোহিত গ্রামের মিনা সম্প্রদায় ছজনের নাম বলে গিয়েছিলেন। 

Edited By: সুমন মজুমদার | Updated By: Oct 9, 2020, 04:55 PM IST
রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত খুনের ঘটনায় রাজনীতি শুরু! গ্রেফতার এক

নিজস্ব প্রতিবেদন - রাজস্থানের করৌলে রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের একজন পুরোহিতকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল ছজন গ্রামবাসী। কোনওরকমে সেই পুরোহিতকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয় হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণব চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় সেই পুরোহিত গ্রামের মিনা সম্প্রদায় ছজনের নাম বলে গিয়েছিলেন। পুলিস তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছিল। সেই অনুযায়ী ওই ছজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে পুলিস। তারপরই এলাকা থেকে ফেরার হয়ে যায় একই পরিবারের ছজন। পুলিস আলাদা টিম করে তল্লাশি শুরু করে। ইতিমধ্যে কৈলাস মিনা নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।

ইতিমধ্যে রাজস্থানের এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সাংসদ রাজ্যবর্ধন সিং রাঠৌর দাবি করেছেন, রাজস্থানে কংগ্রেস সরকারের কুশাসন চলছে। ফলে সেখানে এখন মহিলা থেকে শুরু করে শিশু, বৃদ্ধ কেউই সুরক্ষিত নয়। তিনি এদিন বলেছেন, ''আমি রাহুল গান্ধীকে অনুরোধ করব বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে না গিয়ে রাজস্থানে আসুন। এনসিবি রিপোর্ট বলছে, সারা দেশে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের নিরিখে রাজস্থান এক নম্বরে। রাজনৈতিক পর্যটন করার হলে রাজস্থানে করুন। এখানে এখন কেউই সুরক্ষিত নয়। করৌলির ঘটনা প্রমাণ করছে রাজস্থানে নির্মমতা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে!''

আরও পড়ুন-  ১৩ বিঘা জমি নিয়ে বিবাদ! রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিতের গায়ে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দিল ছ'জন

ইতিমধ্যে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, ''রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণবের হত্যার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক এবং একই সঙ্গে নিন্দনীয়। সভ্য সমাজে এমন ঘটনা বরদাশ্ত করা যায় না। ওনার পরিজনদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।'' উল্লেখ্য, গ্রামেরই রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন বাবুলাল বৈষ্ণব। তিনি প্রধান পুরোহিত হওয়ায় মন্দির ট্রাস্টের নামে থাকা ১৩ বিঘা জমিতে চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করার অধিকার পেয়েছিলেন। সেই জমির কিছুটা অংশে তিনি নিজের জন্য একটি ঘর তৈরি করতে উদ্যোগী হন। কিন্তু তখনই মিনা সম্প্রদায়ের একটি পরিবার এসে দাবি করে, ওই জমি তাদের। সেই থেকেই বচসার শুরু হয়। এরপরই বাবুলাল বৈষ্ণবের বাজরা ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেয় ওই পরিবারের ছজন। ঘটনাস্থলে বাবুলাল বৈষ্ণবের শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়।