)
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনুপ্রেরণা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যাায় (Sourav Ganguly)। এআইএফএফ-এর (AIFF) সভাপতি পদে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন পেশ করার পর এমনটাই জানালেন বাইচুং ভুটিয়া (Bhaichung Bhutia)। একটা সময় মনে হচ্ছিল প্রাক্তন গোলকিপার তথা বিজেপির (BJP) সদস্য কল্যাণ চৌবে (Kalyan Chaubey) অনায়াসে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার (All India Football Federation) মসনদে বসে যাবেন। তাও আবার সর্বসম্মত ভাবে। তবে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দিয়ে এই লড়াইয়ের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বিসিসিআই-এর (BCCI) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উদাহরণ তুলে ধরেন 'পাহাড়ি বিছে'। তাঁর পরিষ্কার দাবি, ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে খেলোয়াড়দেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, 'সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার পর, ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিটা কিন্তু ভীষণ ভাবে দেখতে পাচ্ছি। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবল কী পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটা সকলেই জানে। আমি ফুটবলের আরও উন্নতি করতে পারি। আমার একটা ইতিবাচক দিক হল, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। ফেডারেশনের উন্নতির জন্য যে কোনও প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীর কাছে হাজির হতে পারব।'
এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বাইচুং আরও দাবি করেন, কল্যাণকে একাধিক রাজ্য সংস্থার সমর্থন করলেও তাঁকে নাকি অনেকে ভুল পথে চালিত করছে। বাইচুংয়ের প্রতিক্রিয়া, 'কল্যাণের দাবি প্রত্যেক রাজ্যের একটা ভাল অফিস এবং পরিকাঠামো থাকা দরকার, যেখানে পরিকল্পনা এবং নীতি নির্ধারণ হবে। প্রত্যেক রাজ্যের হাতে ১০ হাজার স্কোয়্যার ফুট জায়গা থাকা দরকার, তাতে ভাল অফিস গড়ে তোলা যাবে। তবে আমার কাছে এটা মোটেই অগ্রাধিকার পায়না। নয়। মনে হয় কল্যাণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। পরের দিকে এ সব কাজ হতেই পারে। আগে ফুটবলের পরিকাঠামো, উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত। ফুটবল লিগ, তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন করা উচিত, যাতে বাচ্চা ছেলেরাও ফুটবল খেলতে পারে। কোচেদের জন্য পরিকল্পনা করা যেতে পারে।'

এখানেই থেমে না থেকে তিনি নিজের ফুটবল অভিজ্ঞতার কথাও সামনে আনেন। বাইচুং যোগ করেন, 'এই মুহূর্তে আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সেটা শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য। ফুটবলকে আরও বেশি কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই। ১৬ বছর ভারতের হয়ে খেলেছি। তার মধ্যে ১২ বছর দেশের অধিনায়কত্ব করেছি। তাই আমার বিশ্বাস ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বটা যথাযথ ভাবে সামলাতে পারব। আমাদের উচিত, সঠিক মানুষ সঠিক ম্যানেজমেন্ট বাছা, যাতে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি হয়।'
এক সময়ের সতীর্থ কল্যাণ চৌবের সঙ্গেই লড়াই পাহাড়ি বিছের। এও বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই কল্যাণের সর্বভারতীয় ফুবটল ফেডারেশনের সভাপতি হওয়া নাকি প্রায় ‘কনফার্ম’। গোলকিপার বনাম স্ট্রাইকারের লড়াই হিসেবে দেখছে ভারতীয় ফুটবল। বাইচুং অবশ্য বরাবরের মতোই মাঠে নামার আগে, শেষ বাঁশি বাজার আগে ম্যাচ হারতে নারাজ। তবে ফেডারেশনের সভাপতি পদে কেন দাঁড়ালেন বাইচুং, সেটা নিয়ে নিজের মনোভাব পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
বাইচুং জানেন যে কল্যাণের বিরুদ্ধে তাঁর জেতার সম্ভাবনা কম। তার মূল কারণ, কল্যাণের পিছনে অনেক রাজ্য সংস্থার সমর্থন রয়েছে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, কল্যাণকে হয়তো ভুল বোঝানো হচ্ছে। কারণ সভাপতি হিসাবে নিজের যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি, বাইচুংয়ের মতে, এই মুহূর্তে তা কখনওই অগ্রাধিকার হতে পারে না।